রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই একের পর এক তৃণমূল (TMC) নেতার বিলাসবহুল বাড়ি, সম্পত্তি ও জীবনযাপন নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কখনও প্রাসাদোপম বাড়ি, কখনও দামি গাড়ির বহর, আবার কখনও বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান সামনে এসে চমকে দিয়েছে সাধারণ মানুষকে। তবে এবার যা সামনে এসেছে, তা নিয়ে কার্যত তোলপাড় পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া পর্যন্ত। বাড়ি নয়, এক তৃণমূল নেতার নামে রয়েছে আস্ত একটি অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম! আর সেই স্টেডিয়ামের চাকচিক্য দেখলে চোখ কপালে উঠছে অনেকেরই।
বীরভূম(TMC) জেলার একটি বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে এই স্টেডিয়াম। স্থানীয়দের দাবি, কোটি কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা হয়েছে এই বিশাল ক্রীড়া পরিকাঠামো। বাইরে থেকে দেখলে অনেকেই একে কোনও বড় কর্পোরেট স্পোর্টস কমপ্লেক্স বলে ভুল করতে পারেন। চারদিকে সবুজে মোড়া এলাকা, প্রবেশপথে আধুনিক গেট, ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে সুসজ্জিত মাঠ এবং একাধিক আধুনিক সুবিধা। অভিযোগ, এই গোটা পরিকাঠামোর মালিকানা ঘিরেই এখন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, (TMC) স্টেডিয়ামের ভিতরে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুল। শুধু তাই নয়, খেলোয়াড়দের জন্য আলাদা ড্রেসিং রুম, জিমনেসিয়াম, আধুনিক ক্লাব হাউস, বিশ্রামাগার এবং প্রশিক্ষণের জন্য একাধিক পিচও তৈরি করা হয়েছে। মাঠের ঘাস এমনভাবে পরিচর্যা করা হয় যে দূর থেকে দেখতে অনেকটা সবুজ গালিচার মতো লাগে। এলাকাবাসীর দাবি, এত বড়সড় ক্রীড়া কমপ্লেক্স সাধারণত সরকারি বা বড় কোনও বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগেই তৈরি হয়। কিন্তু একজন রাজনৈতিক নেতার নামে এমন স্টেডিয়াম ঘিরে প্রশ্ন উঠতেই শুরু করেছে বিরোধীরা।
বিজেপি এবং বাম নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে তৃণমূলকে আক্রমণ করতে শুরু করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের টাকায় বা প্রভাব খাটিয়ে এই ধরনের বিপুল সম্পত্তি তৈরি করা হয়েছে কি না, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যের বহু এলাকায় এখনও সাধারণ মানুষ ন্যূনতম ক্রীড়া পরিকাঠামো থেকে বঞ্চিত। সেখানে একজন রাজনৈতিক নেতার নামে কোটি কোটি টাকার স্টেডিয়াম তৈরি হওয়া স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের দাবি, এই স্টেডিয়াম ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি হয়েছে এবং এর মূল উদ্দেশ্য এলাকার যুবকদের খেলাধুলার সুযোগ করে দেওয়া। দলের দাবি, এখানে বহু স্থানীয় ছেলে নিয়মিত ক্রিকেট ও ফুটবল অনুশীলন করে। ভবিষ্যতে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই এই ধরনের পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি শাসকদলের।
তবে বিতর্ক থামছে না। কারণ স্টেডিয়ামের ভিতরে থাকা একাধিক বিলাসবহুল ব্যবস্থাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে সুইমিং পুল, ক্লাব হাউস এবং অত্যাধুনিক জিম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শুধুমাত্র খেলাধুলার জন্য এত ব্যয়বহুল পরিকাঠামো প্রয়োজন কি না, তা নিয়েও আলোচনা হওয়া দরকার।

















