অসলো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নরওয়ে সফরে সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। (Modi Norway)এই সময় একটি ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নরওয়ের সাংবাদিক হেলে লিং স্বয়ং স্বীকার করেছেন যে তিনি আগে থেকেই জানতেন যৌথ বিবৃতির অনুষ্ঠানে কোনো প্রেস প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকবে না। আর প্রধানমন্ত্রী মোদী সাংবাদিক বৈঠক করেন না।
তবুও তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর দিকে চিৎকার করে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন। এই ঘটনাকে অনেকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলে উল্লেখ করছেন। ঘটনাটি ঘটে মোদী ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের যৌথ বিবৃতির পর। দুই নেতা মঞ্চ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় হেলে লিং জোরে বলে ওঠেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী, বিশ্বের সবচেয়ে মুক্ত প্রেসের কাছ থেকে কিছু প্রশ্ন নেবেন না কেন?” মোদী ও স্টোর সেই সময় মঞ্চ ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন।
আরও দেখুনঃ ১৭ বছরের ভরসার ঋণ শোধ করবে বিজেপি, উত্তরবঙ্গে পা রেখেই বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
হেলে লিং পরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বীকার করেন যে তিনি আসলে মোদীর কাছ থেকে উত্তর আশা করেননি। তিনি জানতেন এটি শুধুমাত্র যৌথ বিবৃতির অনুষ্ঠান, প্রেস কনফারেন্স নয়। তাহলে এই চিৎকারের উদ্দেশ্য কী ছিল? অনেকেই এটিকে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা বলে মনে করছেন।হেলে লিং দাগসাভিসেন নামক একটি নরওয়েজিয়ান পত্রিকার সাংবাদিক ও কমেন্টেটর। এই ঘটনার পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
অথচ তাঁর অ্যাকাউন্ট দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ছিল। ঘটনার ঠিক আগে তিনি অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করেন। এতে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে এটি কি পূর্বপরিকল্পিত নাটক? পরে ভারতীয় দূতাবাস ও এমইএ কর্মকর্তারা তাঁকে প্রেস ব্রিফিংয়ে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন করলে ভারতীয় কর্মকর্তারা বিস্তারিত জবাব দেন। কিন্তু হেলে লিং উত্তর শোনার আগেই জল খাওয়ার অজুহাতে বেরিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
তিনি নিজে এটি অস্বীকার করেছেন।এই ঘটনায় ভারতের বিরোধী দল ও বামপন্থী মিডিয়া পরিবেশ তীব্রভাবে সাড়া দেয়। তাঁরা এটিকে ‘মুক্ত প্রেসের জয়’ হিসেবে উপস্থাপন করেন। কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাম সংগঠন মোদী সরকারের ‘প্রেসবিরোধী’ মনোভাব নিয়ে সমালোচনা শুরু করে। আন্তর্জাতিক কিছু মিডিয়াও এটিকে ভারতের প্রেস ফ্রিডম ইস্যুতে যুক্ত করে। অথচ বাস্তবতা হল যৌথ বিবৃতিতে প্রশ্নোত্তরের রীতি সব দেশেই এক নয়।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীও সেদিন প্রশ্ন নেননি। ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। প্রধানমন্ত্রী মোদী বিদেশ সফরে বিভিন্ন দেশের মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেন, কিন্তু নির্দিষ্ট ফরম্যাট অনুসরণ করা হয়। হেলে লিংয়ের এই আচরণকে ‘শেমলেস অ্যান্টি-মোদী হিট জব’ বলে অভিহিত করেছেন অনেকে। তাঁর চীন-সমর্থক লেখা ও নির্দিষ্ট আইডিওলজিক্যাল লিঙ্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনা ভারতীয় মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যেমন কেউ কেউ হেলে লিংকে ‘সাহসী সাংবাদিক’ বলে প্রশংসা করছেন, অন্যদিকে অনেকে বলছেন এটি ছিল শুধুমাত্র ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। এখানে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করেন।




















