রাজস্থান: রাজস্থানের মরুভূমির বুকে গড়ে ওঠা স্বপ্নের প্রকল্প যেন হঠাৎ আগুনের গ্রাসে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। (HPCL refinery fire)প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্বোধনের মাত্র একদিন আগে, ২০ এপ্রিল সোমবার বিকেলে বালোত্রার পচপদরায় এইচপিসিএল-এর ৮০ হাজার কোটি টাকার বিশাল রিফাইনারিতে ভয়াবহ আগুন লাগে। কালো ধোঁয়ার মেঘ আকাশ ঢেকে দেয়। স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
‘মরুভূমির রত্ন’ বলে পরিচিত এই ৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্রতি বছর (এমএমটিপিএ) ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিনফিল্ড রিফাইনারি-কাম-পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিল।প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, আগুন লাগে রিফাইনারির মূল অংশ সিডিইউ-ভিডিইউ (ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট-ভ্যাকুয়াম ডিস্টিলেশন ইউনিট) এলাকায়। এক্সচেঞ্জার বিস্ফোরণের ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে। শতাধিক ফায়ার টেন্ডার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আরও দেখুনঃ চোপড়ায় ৫০০ র পাত্তি বিলি করে বিতর্কে তৃণমূল নেতা মান্নান
এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কর্মীরা নিজস্ব ফায়ার সেফটি সিস্টেম চালু করে প্রাথমিকভাবে আগুন আটকানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় প্রশাসন ও এইচপিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।এই প্রকল্পটি এইচপিসিএল ও রাজস্থান সরকারের যৌথ উদ্যোগে গড়ে উঠেছে। রাজস্থানের পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য এটিকে ‘গেম চেঞ্জার’ প্রকল্প বলে মনে করা হত।
জুলাই মাস থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদী ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার এই রিফাইনারির উদ্বোধন করার কথা ছিল। উদ্বোধন উপলক্ষে বিস্তারিত প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু একদিন আগেই এই দুর্ঘটনা সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে।এইচপিসিএল-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগুনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। একাধিক সংস্থা যেমন ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ), স্থানীয় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং সম্ভবত সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সিগুলোকে তদন্তে যুক্ত করা হতে পারে।
প্রাথমিকভাবে কারিগরি ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।রাজস্থানের এই প্রকল্পটি শুধু একটি রিফাইনারি নয়, এটি ছিল দেশের প্রথম সম্পূর্ণ সবুজ ক্ষেত্রের ইন্টিগ্রেটেড রিফাইনারি-পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। এতে পেট্রোল, ডিজেল, এভিয়েশন ফুয়েলসহ বিভিন্ন পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন হওয়ার কথা। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে রাজস্থানের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হয়েছিল। হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতো। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পের সুফলের অপেক্ষায় ছিলেন।




















