কলকাতা: দীর্ঘ ১২ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে নজিরবিহীন পরাজয়। লোকসভায় ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হল নরেন্দ্র মোদী সরকার। আর এই বড় জয়ের পরই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। শুক্রবার রাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করলেন রাহুল গান্ধী। ফোনাফুনি চলল মল্লিকার্জুন খাড়গে ও ডেরেক ও’ব্রায়েনের মধ্যেও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে ধন্যবাদ জানালেন অখিলেশ যাদবও।
কেন এই ধন্যবাদ বিনিময়?
নির্বাচনী ব্যস্ততার মধ্যেও লোকসভায় তৃণমূল সাংসদদের ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি এবং বিলের বিপক্ষে ভোট দেওয়া ছিল এই সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। তৃণমূলের ভোটেই মূলত থমকে যায় বিজেপি-র এই গুরুত্বপূর্ণ বিল। তৃণমূলের এই ভূমিকাকে কুর্নিশ জানাতেই অভিষেককে ফোন করেন রাহুল গান্ধী। সূত্রের খবর, অভিষেক ফোনে রাহুলকে বলেন, “জাতীয় রাজনীতিতে হাওয়া এখন বিজেপি-র বিরুদ্ধে ঘুরছে।” অন্যদিকে, রাজ্যসভায় ফ্লোর কো-অর্ডিনেশনের জন্য ডেরেককে ধন্যবাদ জানান খাড়গে।
বিজেপি-র তোপ: ‘দিল্লিতে দোস্তি, বাংলায় কুস্তি’ Rahul Gandhi calls Abhishek Banerjee
তৃণমূল ও কংগ্রেসের এই ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ্যে আসতেই আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের কটাক্ষ, “দিল্লিতে রাহুল গান্ধী আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একে অপরকে ফোন করছেন, অথচ বাংলায় এসে রাহুল গান্ধীই তৃণমূলের সমালোচনা করছেন। এটা স্রেফ নাটক।” উল্লেখ্য, মাত্র দু’দিন আগেই বাংলায় প্রচারে এসে সারদা থেকে আরজি কর ইস্যুতে মমতা সরকারকে বিঁধেছিলেন রাহুল। বাংলায় কংগ্রেস ২৯৪ আসনেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ছে। এই দ্বিমুখী অবস্থানকেই হাতিয়ার করছে বিজেপি।
অভিষেকের হুঙ্কার
সোশ্যাল মিডিয়ায় (X) সরব হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “লোকসভায় বিল পাশের ব্যর্থতা বিজেপি-র অস্বস্তিকে প্রকাশ্যে এনে ফেলেছে। এনডিএ সরকার এখন স্রেফ ‘ধার করা সময়ে’ চলছে। তাদের নিয়ন্ত্রণের ভ্রম এখন সবার চোখের সামনে ভেঙে চুরমার হতে শুরু করেছে।”
ভোটের ময়দানে প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভায় জোটের এই সাফল্য ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ইন্ডিয়া জোটের মনোবল বাড়িয়ে দিল। তবে বাংলায় যেখানে কংগ্রেস ও তৃণমূল একে অপরের প্রধান প্রতিপক্ষ, সেখানে দিল্লির এই ‘দোস্তি’ ভোটারদের মনে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।




















