কমিশনের নজরে দাঙ্গা! শুধু মুর্শিদাবাদেই মোতায়েন ১৭০০০ জওয়ান

কলকাতা: বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। ( Bengal Election)২৩ এপ্রিল প্রথম পর্যায়ের ১৫২টি আসনে মোট ২,৪০৭টি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
west-bengal-election-security-capf-deployment-2026

কলকাতা: বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। ( Bengal Election)২৩ এপ্রিল প্রথম পর্যায়ের ১৫২টি আসনে মোট ২,৪০৭টি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF) কোম্পানি মোতায়েন করা হচ্ছে, যা প্রায় এক লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি জওয়ান। এর সঙ্গে যুক্ত হবে ৪০,৯২৮ জন বাংলা পুলিশের সদস্য। উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে কমিশন কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।

সবচেয়ে বেশি নজর পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার ওপর। এখানে একাই ২৪০টি CAPF কোম্পানি মোতায়েন হবে, যা প্রায় ১৭ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রীয় জওয়ান। জেলাটিকে দুটি পুলিশ জেলায় ভাগ করে মোট ৩১৬টি কোম্পানি দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ২৪০ এবং জঙ্গিপুরে ৭৬। মুর্শিদাবাদে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটার তালিকা সংশোধন হয়েছে বলে জানা গেছে, তাই এখানে সংবেদনশীলতা সবচেয়ে বেশি।

   

আরও দেখুনঃ বৈশাখী দহন থেকে মুক্তি! আজ দক্ষিণের কোন কোন জেলায় কালবৈশাখীর পূর্বাভাস?

এরপরেই রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। এখানে ২৭৩টি CAPF কোম্পানি পাঠানো হচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে ২৭১টি কোম্পানি মোতায়েন হবে। এই দুই জেলায়ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কড়া রাখা হয়েছে। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি এবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এখান থেকে প্রার্থী হয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস তাঁরই সাবেক সহযোগী পবিত্র করকে প্রার্থী করেছে।

২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে শুভেন্দু এই আসন দখল করেছিলেন। এবারের লড়াইয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে, তাই নন্দীগ্রামেও ভারী নিরাপত্তা বলয় গড়া হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৬টি জেলার ১৫২টি আসন জুড়ে এই বিশাল বাহিনী ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্যও মাঠে থাকবেন। বুলেটপ্রুফ যান, ফ্ল্যাগ মার্চ, এলাকা নিয়ন্ত্রণ এবং ২৪ ঘণ্টা নাকা চেকিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।

সংবেদনশীল বুথগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে।রাজনৈতিক মহলে এই বিশাল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে। অনেকে বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে অতীতে যে রাজনৈতিক হিংসা ও বুথ দখলের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো এবার যাতে না ঘটে, সেজন্যই কমিশন এত কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। সাধারণ ভোটাররা চান শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে মহিলা ও বয়স্ক ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল।

এই ব্যবস্থায় তাঁরা কিছুটা আশ্বস্ত বোধ করছেন।তবে কিছু রাজনৈতিক দল এই বিশাল CAPF মোতায়েনকে ‘অতিরিক্ত’ বলে সমালোচনা করেছে। তারা বলছে, এতে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা খাটো করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি ও বিরোধীরা দাবি করছে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, বীরভূমসহ কয়েকটি জেলায় ঐতিহ্যগতভাবে সংঘাতের আশঙ্কা থাকে। তাই সেখানে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.