কোচবিহার: ভোটের মুখে (WB Assembly Election) উত্তরে শাসকদলের অসন্তোষের ছায়া দেখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? বাংলায় ভোটের ঠিক আগে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ভিতরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আর তার আঁচ পেয়েই দলের সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ফোন করে কোচবিহারের প্রবীণ নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে দেখা করতে ডেকেছেন। শুধু দেখা নয়, আগামীকালের জনসভায় উপস্থিত থাকার অনুরোধও জানিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ নিজেই।
রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বক্তব্য
রবীন্দ্রনাথ ঘোষ স্পষ্টভাবে বলেছেন, “দিদি ফোন করেছিলেন। দেখা করতে বলেছেন। জনসভাতেও থাকতে বলেছেন।” তিনি আরও জানান যে এবারের ভোট প্রচারে এখনও পর্যন্ত তাঁকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি। তাঁর কথায়, “এই প্রথম আমি প্রচারে নেই।”
দীর্ঘদিন ধরে কোচবিহারের রাজনীতিতে সক্রিয় এই বর্ষীয়ান নেতা দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। প্রাক্তন মন্ত্রী হিসেবে তিনি জেলায় পরিচিত মুখ। তবুও এবার প্রচারে তাঁর অনুপস্থিতি দলের অন্দরে নানা প্রশ্ন তুলেছে।
আরও পড়ুন: রাতের অন্ধকারে শিবির বদলে পদ্ম পতাকা লাগাচ্ছে তৃণমূল! অভিযোগ বিধায়কের
দলের অন্দরে অস্বস্তি?
কোচবিহারে তৃণমূলের ভেতরে গোষ্ঠীগত অস্বস্তি বেশ কিছুদিন ধরেই চোখে পড়ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মতো প্রবীণ নেতাকে প্রচারে না রাখা নিয়ে দলের কর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। মমতা ব্যানার্জির এই ফোনকলকে অনেকে দেখছেন দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা মেটানোর চেষ্টা হিসেবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এটি অভিমান ভাঙানোর তৎপরতা হতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি ভোটের আগে দলকে ঐক্যবদ্ধ করার বড় বার্তা। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে জল্পনা আরও বেড়েছে।
আরও পড়ুন: রাসবিহারীতে উত্তেজনা! ইডির পর দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর হানা
কোচবিহারে তৃণমূলের চ্যালেঞ্জ
কোচবিহার জেলা তৃণমূলের জন্য সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে দলের অন্দরের ঐক্য ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মতো অভিজ্ঞ নেতাকে সামনে আনলে দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়বে বলে অনেক কর্মী মনে করেন।
মমতা ব্যানার্জি এর আগেও কোচবিহারে দলের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবারের ফোনকল সেই নির্দেশেরই বাস্তবায়ন হতে পারে। তবে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের “এই প্রথম প্রচারে নেই” মন্তব্যটি দেখিয়ে দিচ্ছে যে দলের অন্দরে কিছু অসন্তোষ এখনও রয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘নন্দীগ্রামের মতো ভবানীপুরেও পরিবর্তন হবে’, হলদিয়া থেকে তোপ মোদীর
ভোটের আগে নতুন উত্তাপ
ভোটের মুখে এই একটি ফোনকল কোচবিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। দলের প্রবীণ ও নবীন নেতাদের মধ্যে সম্পর্ক কীভাবে এগোয়, সেদিকে সবার নজর রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ আগামী জনসভায় উপস্থিত থাকলে তা দলের ঐক্যের ইতিবাচক বার্তা দেবে।
তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকরা এখন অপেক্ষায় রয়েছেন যে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের দেখা কী ফল বয়ে আনে। এই ঘটনা শুধু কোচবিহার নয়, উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
দলের অন্দরের এই সমীকরণ বদল কতটা স্থায়ী হয় এবং ভোটে কী প্রভাব পড়ে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে মমতার এই ফোনকল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ভোটের আগে তৃণমূল কোনো অস্বস্তি বাড়তে দিতে চায় না।




















