নয়াদিল্লি: সীমান্তের উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে। চিন-ভারত দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কথা বলা হচ্ছে। ( Arunachal Pradesh)ঠিক এমন সময়ে চিন আবার পুরনো দাবি তুলে ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। বেইজিং তার সিভিল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অরুণাচল প্রদেশের বেশ কয়েকটি জায়গার নতুন চিনা নাম ঘোষণা করেছে। তারা যাকে ‘জাংনান’ বলে ডাকে, সেই অঞ্চলকে নিজেদের সার্বভৌম ভূখণ্ড বলে দাবি করে বলেছে, নামকরণ করা তাদের অধিকারের মধ্যে পড়ে।
কিন্তু ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় (MEA) এই পদক্ষেপকে ‘কল্পিত ও ক্ষতিকর’ বলে একেবারে খারিজ করে দিয়েছে।MEA-এর মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “ভারত চীনের এই কোনো ক্ষতিকর প্রচেষ্টাকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে, যেখানে তারা ভারতীয় ভূখণ্ডের জায়গাগুলোতে কাল্পনিক নাম দিতে চাইছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এমন মিথ্যা দাবি ও ভিত্তিহীন কাহিনী তৈরি করা কোনোভাবেই বাস্তবতা বদলাতে পারবে না।
অরুণাচল প্রদেশসহ এই সব জায়গা ও ভূখণ্ড অতীতে যেমন ছিল, বর্তমানে যেমন আছে, ভবিষ্যতেও তেমনই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ থেকে যাবে।” এই ঘটনা নতুন নয়। ২০১৭ সাল থেকে চীন এভাবে একের পর এক তালিকা প্রকাশ করে আসছে। এবারের তালিকায় পাহাড়, নদী, গ্রামসহ মোট ২৩টি জায়গার নাম দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এটি গত দশ বছরে চীনের ষষ্ঠবারের এমন প্রচেষ্টা। চীন অরুণাচলকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বলে মনে করে এবং ‘জাংনান’ নামে ডাকে।
তাদের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেছেন, এই নামকরণ তাদের সার্বভৌম অধিকারের অংশ। কিন্তু ভারতের দৃষ্টিতে এটা শুধু ‘কার্টোগ্রাফিক আগ্রাসন’ নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেগেটিভিটি ঢোকানোর চেষ্টা।অরুণাচল প্রদেশের মানুষের কাছে এই খবর কোনো নতুন বিস্ময় নয়। তারা বহু বছর ধরে এমন দাবির মুখোমুখি হয়ে আসছেন।
তাওয়াং, ইটানগর থেকে শুরু করে সীমান্তের ছোট ছোট গ্রাম সব জায়গায় ভারতীয় পতাকা উড়ছে, ভারতীয় প্রশাসন চলছে, স্থানীয় মানুষ ভারতীয় নাগরিক হিসেবে গর্বিত। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেছেন, “চীন যতই নাম বদলাক, আমাদের মাটি, আমাদের পরিচয় কেউ বদলাতে পারবে না। আমরা ভারতেরই সন্তান।” অরুণাচলের সাংসদরাও এই প্রচেষ্টাকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।



















