চিন-পাকিস্তানের ঘুম উড়িয়ে ড্রোন যুদ্ধের শেষ কথা ভারতের শেষনাগ

নয়াদিল্লি: ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক স্টার্টআপ নিউ স্পেস রিসার্চ এন্ড টেকনোলজিস। (Sheshnaag-150)তাদের তৈরি অত্যাধুনিক লয়টারিং মিউনিশন ড্রোন ‘শেষনাগ -১৫০’ (SHESHNAAG-150) ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা মহলে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
sheshnaag-150-drone-india-swarm-warfare-defence-technology

নয়াদিল্লি: ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক স্টার্টআপ নিউ স্পেস রিসার্চ এন্ড টেকনোলজিস। (Sheshnaag-150)তাদের তৈরি অত্যাধুনিক লয়টারিং মিউনিশন ড্রোন ‘শেষনাগ -১৫০’ (SHESHNAAG-150) ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা মহলে ব্যাপক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এক অত্যন্ত কার্যকরী এবং সাশ্রয়ী আক্রমণাত্মক ড্রোন, যা আধুনিক যুদ্ধে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

শেষনাগ-১৫০ মূলত একটি দীর্ঘ-পাল্লার স্বয়ংক্রিয় আক্রমণকারী ড্রোন, যা শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। প্রায় ১০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করার ক্ষমতা থাকায় এটি শত্রু দেশের গভীরে ঢুকে স্ট্র্যাটেজিক টার্গেট ধ্বংস করতে পারে। শুধু তাই নয়, ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশে অবস্থান করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে আঘাত হানার ক্ষমতা এই ড্রোনকে আরও কার্যকর করে তুলেছে।

   

আরও দেখুনঃ পনেরোতেই টিম ইন্ডিয়ার দোরগোড়ায় বৈভব, ভাঙতে চলেছেন শচীনের রেকর্ড?

এই ড্রোনের অন্যতম বড় শক্তি হলো এর ‘স্বর্ম ইন্টেলিজেন্স’ প্রযুক্তি। একাধিক শেষনাগ-১৫০ একসঙ্গে কাজ করে শত্রুপক্ষের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে বিভ্রান্ত ও অতিক্রম করতে পারে। প্রতিটি ড্রোন রিয়েল-টাইমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে একটি সমন্বিত আক্রমণ চালায়। এতে করে শত্রুপক্ষের পক্ষে প্রতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

ড্রোনটি ২৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম, যা রাডার স্টেশন, কমান্ড সেন্টার কিংবা সাঁজোয়া যান ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট। এর সঙ্গে রয়েছে জিপিএস-বিহীন ন্যাভিগেশন সিস্টেম, যা স্যাটেলাইট সিগন্যাল ব্লক হয়ে গেলেও নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এই বৈশিষ্ট্য আধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধের পরিবেশে একে আরও মারাত্মক করে তোলে।

শেষনাগ-১৫০-এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর মোবাইল ডিপ্লয়মেন্ট ক্ষমতা। একটি ট্রাকে ২০টিরও বেশি ড্রোন বহন করে দ্রুত নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে গিয়ে লঞ্চ করা যায়। এমনকি হাইওয়ে থেকেও এগুলি উৎক্ষেপণ করা সম্ভব, যা যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষেত্রে বড় সুবিধা দেয়।

এই প্রকল্পের গুরুত্ব বেড়েছে বিশেষ করে অপারেশন সিঁদুরের পর, যেখানে লয়টারিং মিউনিশনের কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। এর পর থেকেই ভারত ‘অ্যাট্রিটেবল ওয়ারফেয়ার’-এর দিকে ঝুঁকছে অর্থাৎ কম খরচে তৈরি করা যায় এমন ড্রোনের মাধ্যমে বড়সড় সামরিক প্রভাব তৈরি করা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেশনাগ-১৫০ শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, এটি ভারতের প্রতিরক্ষা নীতির এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ‘মাদার-কোড’ আর্কিটেকচারের মাধ্যমে একটি ড্রোন পুরো একটি স্বর্মকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা ভবিষ্যতের যুদ্ধকে আরও স্বয়ংক্রিয় ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর করে তুলবে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google