ডায়মন্ডহারবারে নাকা চেকিং! বিজেপি নেতার গাড়িতে ৯ লক্ষ

ডায়মন্ড হারবারের হটুগঞ্জ এলাকায় নাকা চেকিং চলাকালীন বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। (Diamond Harbour)কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের যৌথ তল্লাশিতে একটি গাড়ি থেকে…

ডায়মন্ড হারবারের হটুগঞ্জ এলাকায় নাকা চেকিং চলাকালীন বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। (Diamond Harbour)কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের যৌথ তল্লাশিতে একটি গাড়ি থেকে প্রায় ৯ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা উদ্ধার হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় আটক করা হয়েছে দুই বিজেপি নেতা অরুনাভ মজুমদার এবং অক্ষয় চক্রবর্তীকে।

সাম্প্রতিক ঘটনাটি ডায়মন্ড হারবারের হটুগঞ্জ এলাকায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের যৌথ তল্লাশিতে একটি গাড়ির সিটের নিচ থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৯ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা। পুলিশ সূত্রে দাবি, গাড়িতে থাকা বিজেপি নেতারা এই টাকার উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। জানা গেছে, কুলপি থেকে এই নগদ অর্থ নিয়ে আসা হচ্ছিল। যথাযথ কাগজপত্র বা কারণ দেখাতে না পারায় টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত করছে উস্তি থানার পুলিশ।

Advertisements

তবে এটিই একমাত্র ঘটনা নয়। এর আগেও কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় নাকা চেকিং চলাকালীন বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে। কলকাতার টালিগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত নেতাজিনগরে SST নাকা চেকিংয়ের সময় একটি গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। সেই তল্লাশিতে আলিপুরের এক বাসিন্দার কাছ থেকে প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যক্তিও টাকার উৎস সম্পর্কে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ফলে পুরো টাকাই বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

উত্তরবঙ্গেও একই ছবি। কোচবিহারের শীতলকুচি এলাকায় সিতাই-শীতলকুচি সীমান্তে নাকা চেকিং চলাকালীন একটি গাড়ি থেকে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। শীতলকুচি থানার পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা টাকার বৈধ উৎস দেখাতে না পারায় তা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে বড় কোনও চক্র জড়িত কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে অসম সীমান্তেও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে সেখানে SST নাকা চেকিং চালানো হচ্ছে। গতকাল রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ অসম থেকে কোচবিহারে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। সেই বাসের এক যাত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার হয় ১ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যক্তির বাড়ি আলিপুরদুয়ারে এবং টাকার উৎস নিয়ে সন্দেহ থাকায় তা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আজ সকাল ৮টা নাগাদ ফের একটি চারচাকার গাড়ি আটকানো হয়। সেই গাড়িটি থেকেও প্রায় ২ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, সেটিও অসম থেকে আসছিল। টাকার উৎস এবং উদ্দেশ্য নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
প্রশাসনের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের নগদ অর্থের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এই টাকা ভোটারদের প্রভাবিত করতে বা বেআইনি লেনদেনের কাজে ব্যবহার হতে পারে। সেই কারণেই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে রাজ্যজুড়ে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।