কালিয়াচক: কালিয়াচকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের আটকে রেখে হেনস্থা করার ঘটনায় একের পর এক গ্রেফতারি। (Suvendu Adhikari)মূল ষড়যন্ত্রী মোফাক্কেরুল থেকে শুরু করে ISF নেতা রব্বানি এবং আজ দুজন কংগ্রেস নেতা আসিফ এবং শাহাদাত হুসেইন গ্রেফতার হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি তার মন্তব্যে বলেন যারা গ্রেফতার হচ্ছেন তাদের রাজনৈতিক পরিচয় জানার দরকার নেই।
এই সংক্রান্ত আরও খবর: কালিয়াচক কাণ্ডে NIA জালে কংগ্রেস নেতা আসিফ-শাহাদাত
শুধু তাদের শাস্তি হোক এবং এই ধরণের ঘটনা ঘটালে যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় তার উদাহরণ দিক ভারতের আইন ব্যবস্থা। তিনি বলেছেন যারা অভিযুক্ত তাদের ছবি সমাজমাধ্যমে ঘুরছে তাদের চিহ্নিত করা হোক। পয়লা এপ্রিলের এই ঘটনা নাড়া দিয়ে গিয়েছিল বঙ্গবাসীকে। প্রশ্ন তুলেছিল প্রশাসনের ভূমিকাতেও। যেদিন এই ঘটনা ঘটে সেদিন পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। শেষপর্যন্ত কেন্দ্রিয়বাহিনী গিয়ে ওই ৭ বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে উদ্ধার করে।
আরও দেখুনঃ এশিয়ান ফাইনালে হার আয়ুষের, শি ইউ কি-র কাছে রুপোতেই সন্তুষ্ট
সেদিনের পরে মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলাম পালিয়ে গিয়েছিলেন। তবে পালিয়ে গিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। নেপালে পালাবার পথে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় মোফাক্কেরুলকে। এই ঘটনায় অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে NIA তদন্তের নির্দেশ দেয় সুপ্রিমকোর্ট। NIA তদন্তভার নিয়েই আইএসএফ নেতা গোলাম রব্বানিকে গ্রেফতার করে। আজ আরও দুই কংগ্রেস ছাত্রপরিষদের নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। শুভেন্দু অধিকারীসহ বিজেপি নেতারা বলছেন, এটি রাজ্যে ‘জঙ্গল রাজ’ এর প্রমাণ। তারা দাবি করেছেন, প্রশাসনের অবহেলা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের উস্কানিতে এমন ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা অভিযোগ তুলেছে যে, বিরোধীরা ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ স্পষ্ট। অনেকে বলছেন, “বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উপর হামলা মানে গণতন্ত্রের উপর আঘাত।
যেই দলেরই হোক, দোষীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।”এই ঘটনা রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অসন্তোষ থেকে উদ্ভূত এই ঘটনা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যে স্পষ্ট যে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়। তিনি বলেছেন, “রাজনৈতিক পরিচয় দেখে নয়, অপরাধ দেখে শাস্তি হোক।”




















