India Hypersonic Strike System: ভারত এখন হাইপারসনিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ভারত একটি পূর্ণাঙ্গ হাইপারসনিক হামলা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ধ্বনি হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল, লং-রেঞ্জ অ্যান্টি-শিপ হাইপারসনিক মিসাইল (এলআর-এএসএইচএম) এবং ইটি-এলডিএইচসিএম হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল।
সনিক হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল কী?
সনিক হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল হলো ভারতের নতুন প্রজন্মের দূরপাল্লার, পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র। এটি ম্যাক ৫ থেকে ৬-এর বেশি গতিতে উড়তে পারে। এর পাল্লা আনুমানিক ১০,০০০ কিলোমিটার বলে ধারণা করা হয়। এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা, যা শত্রুর পক্ষে একে বাধা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন করে তোলে। এই সিস্টেমটির পরীক্ষা ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলবে। যেখানে এর গতি, নিয়ন্ত্রণ এবং তাপ সুরক্ষা ক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে।
এলআর-এএসএইচএম ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কাজ অব্যাহত রয়েছে
এছাড়াও, ভারত তার সামুদ্রিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এলআর-এএসএইচএম ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কাজ করছে। এই হাইপারসনিক জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার এবং এটি চলন্ত জাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এটি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের আধিপত্যকে আরও শক্তিশালী করবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এতে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি তিন সশস্ত্র বাহিনীর জন্যই তৈরি করা হচ্ছে।
ইটি-এলডিএইচসিএম কী?
তৃতীয় সিস্টেমটি হলো ইটি-এলডিএইচসিএম, যা ম্যাক ৮-এর বেশি গতিসম্পন্ন একটি হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। এটি ১,৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লা থেকে আঘাত হানতে সক্ষম। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশ, স্থল এবং সমুদ্র প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়। মাঝ আকাশে দিক পরিবর্তন করার ক্ষমতা এটিকে আরও মারাত্মক করে তোলে, যার ফলে শত্রুপক্ষের বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়ানো সহজ হয়।
স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিনের সফল পরীক্ষা
এই সমস্ত সিস্টেমের পেছনের মূল প্রযুক্তি হলো স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ডিআরডিও সফলভাবে এই ইঞ্জিনটির পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এটি একটানা ১২ মিনিট ধরে কাজ করেছে। হাইপারসনিক মিসাইলের জন্য এটিকে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এর ফলে এগুলো দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ গতিতে উড়তে পারে।
ভারত এখন তার পুরনো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে এমন বিশেষায়িত অস্ত্র তৈরি করছে যা শত্রুপক্ষের বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এর ফলে ভারতের সামরিক শক্তিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।




















