নয়াদিল্লি: ভারত অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা ফুটবল দল সম্প্রতি ধারাবাহিক ইতিবাচক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করেছে। গত মাসে মায়ানমারের ইয়াঙ্গনে দুটি প্রীতি ম্যাচে তারা ২-০ এবং ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়, যা দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সাফল্যের পর দলটি বেঙ্গালুরুতে প্রস্তুতি শিবির চালিয়ে যায় এবং সেখান থেকে রাশিয়ার সোচিতে রওনা দেয়, যেখানে তারা আরও কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের পরীক্ষা করবে।
এই পুরো প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা এশিয়ান কাপ, যা চীনে আয়োজিত হবে। সেখানে ভারত পড়েছে কঠিন গ্রুপ ‘সি’-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং লেবানন। তাই এই মুহূর্তে প্রতিটি ম্যাচই দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের সুযোগ। দলের কোচ পামেলা কন্তি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এই তরুণ ফুটবলারদের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের ইতিবাচক মনোভাব এবং শেখার আগ্রহ। খুব অল্প বয়স হওয়া সত্ত্বেও তারা অনুশীলনে যে নিষ্ঠা এবং মনোযোগ দেখাচ্ছে, তা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। কন্তি বিশ্বাস করেন, এই দলটির সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে আসন্ন ম্যাচগুলো ভারতের জন্য ভিন্নধর্মী চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে। কন্তির মতে, রাশিয়া একটি অত্যন্ত শারীরিকভাবে শক্তিশালী দল, যাদের খেলায় গতি এবং উচ্চতা বড় ভূমিকা রাখে। এই ধরনের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এশিয়ান কাপে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলোর বিরুদ্ধেও একই ধরনের শারীরিক লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। এছাড়া আবহাওয়া এবং ভেজা পিচের মতো বিষয়ও ভারতের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
কন্তি জানিয়েছেন, “প্রতিপক্ষকে বেশি সময় ও জায়গা দিলে তারা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই ভারতকে উচ্চচাপ সৃষ্টি করে খেলতে হবে, যাতে রাশিয়ার খেলোয়াড়রা সহজে নিজেদের খেলা গড়ে তুলতে না পারে”। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, “এই প্রস্তুতি পর্বের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফলাফল নয়, বরং খেলোয়াড়দের সামগ্রিক উন্নয়ন। এছাড়া কন্তি মহিলাদের ফুটবলের আঞ্চলিক পার্থক্য নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করেছেন। দক্ষিণ আমেরিকায় খেলা বেশি কারিগরি দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল এবং স্বতঃস্ফূর্ত, যেন রাস্তায় খেলার মতো। অন্যদিকে ইউরোপে ফুটবল অনেক বেশি সংগঠিত ও পরিকল্পিত”।
এশিয়ার ক্ষেত্রে তিনি মনে করেন, এখনও অনেক দল উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে এবং আরও কাঠামোগত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ভারতীয় দল ধীরে ধীরে নিজেদের গড়ে তুলছে। সামনের কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোই তাদের আরও শক্তিশালী করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুত করবে।




















