নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝে আরও একটি সফল উদ্ধার অভিযান। (fishermen rescued)ইরানে আটকে পড়া আরও ৩১২ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী নিরাপদে দেশে ফিরে এসেছেন। আর্মেনিয়ার মাধ্যমে এই যাত্রা সম্ভব হয়েছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “আরও ৩১২ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী ইরান থেকে আর্মেনিয়ার মাধ্যমে নিরাপদে ভারতে ফিরে এসেছেন। আর্মেনিয়া সরকার এবং আমার বন্ধু আরারাত মির্জোয়ানকে ধন্যবাদ, যাঁরা এটি সম্ভব করেছেন।”
এই খবর শুনে মৎসজীবি পরিবারের চোখে আনন্দের হাসি। দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই মৎস্যজীবীরা বছরের পর বছর ইরানের জলসীমায় কাজ করতেন। তাঁদের অনেকেই তামিলনাড়ু, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং অন্যান্য রাজ্যের। সমুদ্রে মাছ ধরার কাজে গিয়ে তাঁরা সেখানে আটকে পড়েন। পশ্চিম এশিয়ায় যখন উত্তেজনা বাড়তে থাকে, তখন তাঁদের নৌকা, পাসপোর্ট আটকে যায়। বেতন পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। খাবার-দাবারের সংকট দেখা দেয়।
আরও দেখুনঃ ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর জন্য তৈরি হচ্ছে ১৪টি দেশীয় পেট্রল ভেসেল
দিনের পর দিন অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটানোর পর অবশেষে দেশের সরকারের তৎপরতায় তাঁরা বাড়ি ফিরতে পেরেছেন।বিদেশমন্ত্রকের তথ্য অনুসারে, এ পর্যন্ত ইরান থেকে ১২০০-রও বেশি ভারতীয় নাগরিককে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার জনকে আর্মেনিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখান থেকে বিমানে করে তাঁদের ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই ৩১২ জন মৎস্যজীবীও একই পথে এসেছেন।
এই উদ্ধার অভিযানে আর্মেনিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত সরকারের সঙ্গে আর্মেনিয়ার সুসম্পর্কের কারণে এই ট্রানজিট রুট খোলা সম্ভব হয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর তাঁর বন্ধু আর্মেনিয়ার বিদেশমন্ত্রী আরারাত মির্জোয়ানকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আর্মেনিয়া সরকার এবং আরারাত মির্জোয়ানের সহযোগিতায় আজ ইরান থেকে আর্মেনিয়ার মাধ্যমে ভারতীয় মৎস্যজীবীদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”
এই কূটনৈতিক সম্পর্কের জোরেই জটিল পরিস্থিতিতেও ভারত তার নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে পারছে।ইরানে আটকে পড়া ভারতীয়দের মধ্যে শুধু মৎস্যজীবী নয়, ছাত্রছাত্রী এবং অন্যান্য কর্মীরাও রয়েছেন। এখনও কয়েকশো ভারতীয় সেখানে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বিদেশমন্ত্রক বলছে, পরিস্থিতি অনুসারে বাকিদেরও ধাপে ধাপে ফিরিয়ে আনা হবে। এই অভিযানে ভারতের দূতাবাসগুলো তেহরান ও ইয়েরেভান অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। প্রথমে ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে উত্তরাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া, তারপর আর্মেনিয়ায় প্রবেশ এবং সেখান থেকে বিমানে চড়িয়ে দেশে ফেরত পাঠানো পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল চ্যালেঞ্জিং।



















