কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে রেশন দুর্নীতির ইস্যু। (ration corruption)এবার এই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে বিজেপির অভিযোগ, যেখানে সরাসরি নিশানা করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং তার সরকারের খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে একসময় দায়িত্বে থাকা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তার সরকারই ভুয়ো রেশন কার্ড চিহ্নিত করে তা বাতিল করেছে। সেই জন্যই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের জেল হয়েছিল এমনটাই দাবি করেন মমতা। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ তোলেন, এই ভুয়ো কার্ডের বেশিরভাগই তৈরি হয়েছিল বাম আমলে। কিন্তু বিজেপির তরফে এই বক্তব্যকে ‘তথ্য বিকৃতি’ বলে দাবি করা হয়েছে।
বিজেপির বক্তব্য অনুযায়ী, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তাদের দাবি, ২০১৯ সালে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান রেশন কার্ড (ONORC) প্রকল্প চালু করেন, তখন তৃণমূল কংগ্রেস এই প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিল। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের যেকোনও প্রান্তে বসবাসকারী সুবিধাভোগীরা যাতে রেশন সুবিধা পেতে পারেন এবং পুরো ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প কার্যকর করতে প্রায় দু’বছর দেরি হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে সুপ্রিমকোর্টের হস্তক্ষেপে রাজ্য সরকারকে বাধ্য হয়ে এই প্রকল্প চালু করতে হয়। এরপর আধার সংযোগের মাধ্যমে রেশন কার্ড যাচাই শুরু হয়।
আরও দেখুনঃ নিজেদের পাতা ফাঁদেই বিপাকে ইরান! হরমুজ প্রণালীতে মাইন খুঁজতে কালঘাম ছুটছে তেহরানের
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিজেপি তুলে ধরছে, এই আধার সংযোগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মাত্র আট মাসের মধ্যেই প্রায় ১.১৪ কোটি রেশন কার্ড বাতিল হয়ে যায়। এই সংখ্যাই এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। বিজেপির প্রশ্ন, যদি এত বড় সংখ্যক ভুয়ো রেশন কার্ড ২০২২ সালে ধরা পড়ে, তাহলে ২০১১ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা রাজ্য সরকার ১১ বছর ধরে কি করছিল?
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, বছরের পর বছর সাধারণ মানুষ তাদের প্রাপ্য খাদ্যশস্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে, এই ভুয়ো কার্ডগুলির মাধ্যমে কারা সুবিধা পেয়েছে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তাদের মতে, এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং একটি বড়সড় দুর্নীতির ইঙ্গিত।
তবে এই অভিযোগকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে শাসক দল। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, তারা ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করছে। ভুয়ো কার্ড চিহ্নিতকরণ এবং বাতিল করার প্রক্রিয়া একটি চলমান কাজ, যা সময়সাপেক্ষ। পাশাপাশি তারা পাল্টা অভিযোগ করেছে, কেন্দ্রের প্রকল্পগুলি অনেক সময় রাজ্যের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক আগামী নির্বাচনের আগে আরও তীব্র হতে পারে। কারণ খাদ্য নিরাপত্তা এবং রেশন ব্যবস্থা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এই ইস্যুতে জনমত গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



















