কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে দলবদলের ঢেউ আরও জোরালো হচ্ছে। (Bikashnarayan Chowdhury)এবার মঙ্গলকোটের বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা বিকাশনারায়ণ চৌধুরী এবং টলিপাড়ার পরিচিত মুখ অভিনেত্রী মাফিন চক্রবর্তী বিজেপিতে যোগ দিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করলেন। শুক্রবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরের পতাকা হাতে তুলে নেন।
রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে চর্চার কেন্দ্রে রয়েছেন বিকাশনারায়ণ চৌধুরী। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাকালীন লড়াইয়ের অন্যতম সৈনিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, বাম আমলে মঙ্গলকোটে রাজনৈতিক লড়াইয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। বিশেষ করে ২০০৯ সালের ৮ আগস্ট সিপিএমের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। সেই সময় তাঁকে কয়েক মাস জেলেও থাকতে হয়েছিল।
শুধু তাই নয়, বিকাশনারায়ণ চৌধুরী জেলাপরিষদে একাধিকবার জয়ী হয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর নেতৃত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। তাঁর অভিযোগ, মঙ্গলকোট-সহ একাধিক জায়গায় মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাঁকে জেলে থাকতে হয়েছে, কিন্তু সেই সময় দলের কেউ তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি। এই ‘ক্ষোভ’ থেকেই তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, অভিনেত্রী মাফিন চক্রবর্তীর বিজেপিতে যোগদানও কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। টেলিভিশন জগতের পরিচিত মুখ হিসেবে তিনি ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। প্রায় ২০টিরও বেশি বাংলা ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘কিরণমালা’, ‘ভানুমতির খেল’ এবং ‘তুমি এলে তাই’। রাজনীতিতে প্রবেশ করে তিনি এবার সরাসরি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে চলেছেন।
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে এই দুই নতুন মুখকে দলের প্রচার কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে দেখা যাবে। তাঁদের অভিজ্ঞতা এবং জনপ্রিয়তা বিজেপির সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে বলেই দলের আশা।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপিতে একের পর এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের যোগদান রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও চাঞ্চল্যকর করে তুলেছে। কয়েকদিন আগেই প্রখ্যাত টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ বিজেপিতে যোগ দেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এবং বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে তাঁর যোগদানকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছিল বিজেপি।
এছাড়াও, প্রাক্তন সিপিএম নেতা কানাইচন্দ্র মণ্ডল, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহের ভাইপো জয় গুহ, প্রাক্তন ফুটবলার অরিন্দম ভট্টাচার্য এবং কস্তুরী গোস্বামীর মতো একাধিক পরিচিত মুখ ইতিমধ্যেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ফলে নির্বাচনের আগে দলবদলের এই ধারা যে বিজেপির পক্ষে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে, তা স্পষ্ট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দলবদল শুধু সংখ্যার হিসেবে নয়, বরং জনমত গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিশেষ করে জনপ্রিয় মুখ এবং প্রভাবশালী নেতাদের যোগদান সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।



















