নয়াদিল্লি: ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ভারতের জন্য পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান F-35 নিয়ে (F-35)নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ৯ এপ্রিল পেন্টাগনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি মাইক ডাফি এবং ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। এই বৈঠকের পরই আমেরিকার তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে ভারতের জন্য F-35 যুদ্ধবিমানের দরজা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
তবে এই ইঙ্গিতকে সরাসরি কোনও প্রস্তাব হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। বরং কৌশলগত বার্তা হিসেবেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ, আমেরিকা চাইলে ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে এই উন্নত যুদ্ধবিমান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। বিশ্বের অন্যতম আধুনিক স্টেলথ ফাইটার হিসেবে পরিচিত F-35 বিমান ভারতের বায়ুসেনার ক্ষমতায় এক বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে।
আরও দেখুনঃ মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা, চাকরি, উন্নয়ন! ভোটের আগে একাধিক প্রতিশ্রুতি বিজেপির
F-35 যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে বড় শক্তি হল তার স্টেলথ প্রযুক্তি, উন্নত সেন্সর ফিউশন এবং নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শত্রুর নজর এড়িয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত আক্রমণ চালানো সম্ভব। ফলে, এই যুদ্ধবিমান যুক্ত হলে ভারতীয় বায়ুসেনার কৌশলগত সক্ষমতা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই সম্ভাবনার সঙ্গে একাধিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। F-35 সাধারণ কোনও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নয়, বরং এটি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত একটি প্ল্যাটফর্ম। এই বিমান ব্যবহার করতে গেলে আমেরিকার কঠোর শর্ত মানতে হয়। বিশেষ করে ডেটা শেয়ারিং, সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ এবং অপারেশনাল ব্যবহারে মার্কিন প্রভাব থেকে যায়। ফলে ভারতের স্বাধীন প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে এই বিষয়টি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আরও একটি বড় সমস্যা হল ভারতের বিদ্যমান রুশ প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে F-35-এর সামঞ্জস্য। বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে রাশিয়ার তৈরি বহু যুদ্ধবিমান এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়। এই দুই ভিন্ন প্রযুক্তির সমন্বয় করা অত্যন্ত জটিল হতে পারে, যা অপারেশনাল ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ভারত আপাতত নিজেদের স্বদেশি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্প AMCA র ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যেই এই প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, AMCA পুরোপুরি কার্যকর হতে এখনও সময় লাগবে। সেই কারণে F-35 একটি “স্টপগ্যাপ” বা সহায়ক বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



















