গয়া: বিহারের গয়া জেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারকে নৃশংসভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এমএলসি কালাম কুরেশি (Kalam Qureshi)এবং তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। দোকান বন্ধ করতে বলায় এএসআই বিক্রম পাসওয়ানের ওপর হামলা চালানো হয়। তাঁর একটি হাত ভেঙে গেছে, পুলিশের ইউনিফর্ম ছিঁড়ে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। বর্তমানে তিনি গয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে গয়ার এক ব্যস্ত এলাকায়। এএসআই বিক্রম পাসওয়ান নিয়মিত ডিউটিতে ছিলেন। স্থানীয় একটি দোকান অসময়ে খোলা রাখায় তিনি মালিককে বন্ধ করতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর ওপর চড়াও হয়। অভিযোগ অনুসারে, এমএলসি কালাম কুরেশি এবং তাঁর কয়েকজন সঙ্গীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মিলে পাসওয়ানকে লাঠি, ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করেন। পাসওয়ান বারবার বলার পরও হামলা থামেনি।
আরও দেখুনঃ যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করবে দেশ! দুদিনের ছুটি ঘোষণা পাকিস্তানে
আশেপাশের লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত।হামলার পর পাসওয়ানের অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে তাঁকে তাড়াহুড়ো করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, তাঁর বাঁ হাতের হাড় ভেঙেছে, মাথায় ও শরীরে একাধিক আঘাত রয়েছে। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল করতে চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ কর্মীদের মধ্যে এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
অনেকে বলছেন, “যে পুলিশ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য জীবন বাজি রাখে, তাকেই যদি এভাবে মারধর করা হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা কীভাবে সম্ভব?”পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। ঘটনার পরপরই মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুজনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত এমএলসি কালাম কুরেশি পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাঁকে খুঁজে বের করতে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। বিহার পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছেন।
এসপি এবং অন্যান্য আধিকারিকরা হাসপাতালে গিয়ে আহত পুলিশকর্মীর খোঁজ নিয়েছেন এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন।এই ঘটনা গয়া জেলায় বড় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের দাপটে সাধারণ পুলিশকর্মীরা প্রায়ই হয়রানির শিকার হন। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রাতে দোকান খোলা রাখা অনেক সময় নিয়মবিরুদ্ধ, কিন্তু তাই বলে পুলিশকে এভাবে মারধর করা তো একেবারেই অন্যায়।” অনেকে এমএলসি কুরেশির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



















