কলকাতা: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোটচুরি ও বুথ ক্যাপচারিং আটকাতে নির্বাচন কমিশন (ECI alarm camera) এক অভিনব প্রযুক্তির ব্যবহার করতে চলেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী রাজ্যের প্রতিটি পোলিং বুথে ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরানো যায় এমন বিশেষ ধরনের অ্যালার্ম-সহ ক্যামেরা বসানো হবে। যদি ইভিএম-এর সামনে একাধিক ব্যক্তি একসঙ্গে যান, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ম বেজে উঠবে এবং কন্ট্রোল রুমে সতর্কতা জারি হবে।
রাজ্যের প্রায় ৮০ হাজারেরও বেশি পোলিং বুথে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে। ভিতরে ও বাইরে মিলিয়ে প্রায় দু’লক্ষ ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সংবেদনশীল বুথগুলোতে তো তিনটি করে ক্যামেরা থাকবে। এই ক্যামেরাগুলো রিয়েল টাইমে লাইভ ফিড পাঠাবে কলকাতা ও দিল্লির কন্ট্রোল রুমে। সেখান থেকে মাইক্রো অবজার্ভাররা সারাক্ষণ নজর রাখবেন।কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এআই-সমর্থিত এই ক্যামেরা শুধু ঘোরানোই নয়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে অস্বাভাবিক গতিবিধি শনাক্ত করতে পারবে।
আরও দেখুনঃ রাফায়েল চুক্তিতে বদল! আম্বানির রিলায়েন্স বাদ, পুনর্গঠিত হবে DRAL যৌথ উদ্যোগ
যদি একজনের বেশি ব্যক্তি ইভিএম-এর কাছে যান বা কোনও অপ্রয়োজনীয় ভিড় তৈরি হয়, তাহলে অ্যালার্ম বেজে উঠবে। এতে ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোট কেড়ে নেওয়া বা জোর করে ভোট দেওয়ানোর চেষ্টা অনেকটাই কঠিন হয়ে যাবে। ক্যামেরা বন্ধ করার চেষ্টা করলেও সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতা জারি হবে এবং প্রয়োজনে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।এছাড়া, ভোটারদের হুমকি দেওয়া বা ভয় দেখানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করা যাবে।
নির্বাচনী আইনের অধীনে এই ক্ষমতা কমিশন ও পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। এতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভয় তৈরি হবে।পশ্চিমবঙ্গে অতীতে নির্বাচনে বুথ ক্যাপচারিং, ভোটারদের ভয় দেখানো ও হিংসার অভিযোগ বারবার উঠেছে। তাই এবার কমিশন একেবারে “জিরো টলারেন্স” নীতি নিয়ে এগোচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়াও এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্বাচনকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার চেষ্টা চলছে। কলকাতায় একটি বড় কন্ট্রোল কমান্ড সেন্টারও তৈরি করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে শতাধিক বুথের লাইভ ফিড দেখা যাবে।



















