নয়াদিল্লি: কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গের একটি বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। (Gujarat protest)কেরলের এক নির্বাচনী জনসভায় খড়গে বলেছিলেন, “কেরলের মানুষ শিক্ষিত ও চতুর, তাদের বিভ্রান্ত করা যায় না। কিন্তু গুজরাট বা অন্য কিছু জায়গার অশিক্ষিত মানুষকে বিভ্রান্ত করা যায়।” এই মন্তব্যকে গুজরাতের মানুষের প্রতি অপমানজনক বলে মনে করছেন অনেকে। তারই প্রতিবাদে আজ দিল্লিতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বাইরে গুজরাতি সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।
প্রতিবাদকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে স্লোগান দেন “খড়গে মাফ চাও”, “গুজরাতের অপমান সহ্য করা হবে না”। অনেকে বলেন, গুজরাত আজ শিল্প, বাণিজ্য ও উন্নয়নের প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে রাজ্যটি দেশের অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এমন একটি রাজ্যের মানুষকে “অশিক্ষিত” বলে অপমান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছিলেন গুজরাতি ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ছাত্র এবং সাধারণ নাগরিক। তাঁরা দাবি করেন, খড়গেকে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে।
আরও দেখুনঃ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হতেই আমিরাত যাত্রা ঘোষণা জয়শঙ্করের
ঘটনাটি শুরু হয়েছিল কেরালার ইদুক্কি জেলায় একটি জনসভায়। খড়গে সেখানে কেরলের মানুষের প্রশংসা করতে গিয়ে গুজরাত ও উত্তর ভারতের কিছু অংশের মানুষকে তুলনামূলকভাবে “অশিক্ষিত” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী ও কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এমন মানুষদের বিভ্রান্ত করতে পারেন, কিন্তু কেরলের শিক্ষিত জনগণকে নয়। এই বক্তব্য ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।বিজেপি এই মন্তব্যকে “লজ্জাজনক ও অশোভন” বলে আখ্যায়িত করেছে।
দলের বর্ষীয়ান নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, “খড়গে দেশের কাছে ক্ষমা চাইবেন। গুজরাতের সাক্ষরতার হার ৮২ শতাংশেরও বেশি। এছাড়াও গুজরাত শিল্প, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নে এগিয়ে আছে। এমন একটি রাজ্যের মানুষকে অপমান করা মানে গোটা দেশের একটি অংশকে অপমান করা।” গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেলসহ অন্যান্য বিজেপি নেতারাও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।গুজরাতি সম্প্রদায়ের প্রতিবাদকারীরা বলছেন, গুজরাত শুধু একটি রাজ্য নয়, এটি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ভূমি।
এখান থেকে দেশের অনেক বড় বড় শিল্পপতি উঠে এসেছেন। রাজ্যের মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। খড়গের মন্তব্যকে তাঁরা “আঞ্চলিক বিদ্বেষ” বলে অভিহিত করেছেন। এক প্রতিবাদকারী বলেন, “আমরা গুজরাতি হিসেবে গর্বিত। কেউ আমাদের অপমান করলে আমরা চুপ করে থাকব না।”কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও সরাসরি কোনও ক্ষমাপ্রার্থনা করা হয়নি। তবে দলের কিছু নেতা, যেমন শশী থারুর, রাজনৈতিক বিতর্কে সৌজন্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, “রাজনীতিতে নিম্নমানের ভাষা ব্যবহার না করাই ভালো।” এদিকে বিজেপি দিল্লিতে কংগ্রেস কার্যালয়ের বাইরে বড়সড় প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে। গুজরাতি সম্প্রদায়ের এই বিক্ষোভ সেই প্রতিবাদেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।এই ঘটনা আসন্ন নির্বাচনগুলোর আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে গুজরাতের স্থানীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই বিতর্ক বিজেপির হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, খড়গের মন্তব্য কংগ্রেসের জন্য আত্মঘাতী হয়ে উঠতে পারে। কারণ গুজরাতে কংগ্রেস ইতিমধ্যেই দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।



















