ভারতীয় বিমান বাহিনী (Indian Air Force) তার যুদ্ধ সক্ষমতা আরও জোরদার করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা আধুনিক ও সাশ্রয়ী মূল্যের আক্রমণ ব্যবস্থা তৈরি করছে। এই সিস্টেমটিকে এয়ার-ড্রপড ক্যানিস্টারাইজড সোয়ার্ম (ADC-S) বলা হয়। এই নতুন প্রযুক্তি এখন সি-১৭ গ্লোবমাস্টার III, সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস এবং সি-২৯৫-এর মতো পরিবহন বিমানগুলোকে শত্রুর ওপর দূরপাল্লার আক্রমণ চালানোর সুযোগ করে দেবে।
সি-১৭ গ্লোবমাস্টার III, সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস এবং সি-২৯৫ সহ প্রধান পরিবহন বিমানগুলো থেকে মোতায়েনের জন্য পরিকল্পিত এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো আজকের জটিল যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য একটি নির্ভুল আঘাত হানার পদ্ধতি প্রবর্তন করা।
এডিসি-এস সিস্টেমটি কী?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সিস্টেমে পরিবহন বিমান একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে বিশেষ কন্টেইনার (ক্যানিস্টার) ফেলবে। এই ক্যানিস্টারগুলোর ভেতরে ৬ থেকে ৮টি স্মার্ট ড্রোন থাকবে। ক্যানিস্টারগুলো খোলার সাথে সাথে ড্রোনগুলো বেরিয়ে এসে তাদের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করবে এবং আক্রমণ শুরু করবে।
#Exclusive : IAF begins the process of acquiring Air-Dropped Canisterised Swarm (ADC-S)
✅ Deployment: Palletized drop from transport aircraft (C-17, C-130, C-295).
✅ Stand-off Range: Minimum ~500 km from the drop point.
✅ Swarm Load: 6–8+ munitions per canister.
✅… pic.twitter.com/X8HUGGRIT0— Alpha Defense™🇮🇳 (@alpha_defense) April 3, 2026
৫০০ কিমি দূর থেকে সুনির্দিষ্ট আক্রমণ
আইএএফ-এর পরিকল্পনা হলো, এই ড্রোনগুলো ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লা থেকে আক্রমণ চালাবে, ঘণ্টায় ৩৫০-৪০০ কিমি গতিতে উড়বে, প্রতিটি ড্রোন কমপক্ষে ৩০ কেজি অস্ত্র বহন করবে এবং ৫ মিটারের মধ্যে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানবে (অত্যন্ত উচ্চ নির্ভুলতা)। উল্লেখযোগ্যভাবে, জিপিএস নিষ্ক্রিয় থাকলেও এই ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
কেন এটি একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন?
এখন পর্যন্ত, এই ধরনের হামলা চালানো হয়েছে ব্যয়বহুল ক্রুজ মিসাইল বা যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। তবে, এই নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে এমনকি পরিবহন বিমানও আক্রমণকারী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে। পাইলট এবং বিমান শত্রুর বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে দূরে নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকবে এবং একাধিক ড্রোন একই সাথে আক্রমণ করে শত্রুর বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হবে।
শত্রুর বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরাভূত করা
যখন কয়েক ডজন ড্রোন বিভিন্ন দিক থেকে একযোগে আক্রমণ করে, তখন শত্রুর বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে সেগুলোকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। একে ঝাঁকবদ্ধ আক্রমণ (সোয়ার্ম অ্যাটাক) বলা হয়, যা আধুনিক যুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।
আত্মনির্ভর ভারত গড়ার লক্ষ্যে
এই প্রকল্পটি ‘মেক-২’ বিভাগের অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার জন্য কমপক্ষে ৫০% দেশীয় প্রযুক্তি প্রয়োজন। এটি ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা এবং স্টার্টআপগুলির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করবে।
এটি কবে বাস্তবায়ন করা হবে?
সূত্রমতে, এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করার শেষ তারিখ ৩০ এপ্রিল, ২০২৬। এরপর সফল সিস্টেমগুলো ‘বাই ইন্ডিয়ান-আইডিডিএম’ বিভাগের অধীনে সংগ্রহ করা হবে। এডিসি-এস সিস্টেমের সংযোজন ভারতীয় বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি করবে। এখন যুদ্ধবিমান মোতায়েন না করেই শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে নির্ভুল ও দ্রুত হামলা চালানো সম্ভব হবে। এটি ভবিষ্যতের নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।




















