নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের আবহে দেশে যাতে জ্বালানির কোনো সংকট তৈরি না হয়, তার জন্য তৎপর কেন্দ্রীয় সরকার। সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে পেট্রোল, ডিজেল বা এলপিজি (LPG)-র কোনো ঘাটতি নেই। সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি মজুত (Panic buying) করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে সহজেই ৫ কেজি ওজনের ছোট এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতে জোর দিয়েছে কেন্দ্র।
ঠিকানার প্রমাণপত্র ছাড়াই মিলছে গ্যাস
মন্ত্রক জানিয়েছে, গত ২৩ মার্চের পর থেকে দেশজুড়ে প্রায় ৬.৬ লক্ষ ৫ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে। ১৪.২ কেজির রান্নার গ্যাসের মতো এতে কোনো ভর্তুকি মেলে না, বাজারদরেই এটি কিনতে হয়। তবে এই গ্যাস কেনার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এর জন্য কোনো ঠিকানার প্রমাণপত্র লাগে না। যেকোনো বৈধ সচিত্র পরিচয়পত্র (ID Proof) দেখিয়ে সরাসরি ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে এটি কেনা যাবে। এলপিজি-র জোগান স্বাভাবিক রয়েছে দাবি করে কেন্দ্র জানিয়েছে, শুধুমাত্র ৪ এপ্রিল দেশজুড়ে ৫১ লক্ষেরও বেশি সিলিন্ডার ডেলিভারি করা হয়েছে, যার ৯৫ শতাংশই অনলাইনে বুকিং হয়েছিল।
বিকল্প রান্নার পদ্ধতি ও কালোবাজারি রুখতে কড়া পদক্ষেপ India fuel supply no shortage
জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা পিএনজি সংযোগের সম্প্রসারণেও জোর দিচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যেই ৩.৬ লক্ষ পরিবারে এই সংযোগ পৌঁছেছে এবং মার্চ মাস থেকে ৩.৯ লক্ষ নতুন রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। জনগণকে পিএনজি, ইলেকট্রিক কুকটপ বা ইন্ডাকশন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, কালোবাজারি ও মজুতদারি রুখতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন। মার্চ মাস থেকে এখনও পর্যন্ত বেআইনিভাবে মজুত করা ৫০ হাজারেরও বেশি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নিয়ম ভাঙার অভিযোগে ১৪০০টি শো-কজ নোটিশ জারি করার পাশাপাশি ৩৬টি ডিস্ট্রিবিউটারশিপ সাসপেন্ড করা হয়েছে।




















