ম্যানচেস্টার সিটি-র দাপটে বিধ্বস্ত লিভারপুল। শনিবার FA Cup-এর কোয়ার্টার ফাইনালে একতরফা ম্যাচে ৪–০ গোলে জিতে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল সিটি। ম্যাচের নায়ক নিঃসন্দেহে আর্লিং হাল্যান্ড, যিনি একাই হ্যাটট্রিক করে প্রতিপক্ষকে ছিন্নভিন্ন করে দেন। এতিহাদ স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় পেপ গুয়ার্দিওলা-র দল। আক্রমণাত্মক ফুটবল ও বল দখলের লড়াইয়ে লিভারপুলকে কার্যত কোণঠাসা করে ফেলে তারা। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন হাল্যান্ড। সেই গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে আবার গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছন্দে খেলতে থাকে সিটি। ৫৭ মিনিটে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাল্যান্ড। এর মাঝে দলের হয়ে একটি গোল করেন আন্তনিও সেমেনেও, ফলে লিভারপুলের রক্ষণ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। চার গোলের ধাক্কায় ম্যাচ কার্যত সেখানেই শেষ হয়ে যায়। অন্যদিকে, আর্নে স্লট-এর লিভারপুল এই ম্যাচে কোনও লড়াইই গড়ে তুলতে পারেনি। মাঝমাঠে বল ধরে রাখা থেকে শুরু করে রক্ষণ সামলানো, সব ক্ষেত্রেই তারা পিছিয়ে ছিল। ম্যাচের শেষ দিকে কিছুটা সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। এমনকি পেনাল্টি থেকেও গোল করতে ব্যর্থ হন মোহাম্মেদ সালাহ; তাঁর শট দুর্দান্তভাবে বাঁচিয়ে দেন সিটির গোলরক্ষক জেমস ট্র্যাফোর্ড।
এই হারের পর লিভারপুল সমর্থকদের ক্ষোভ চরমে ওঠে। গ্যালারিতেই কোচ স্লটের অপসারণের দাবি ওঠে জোরালোভাবে। মাত্র এক বছর আগেই তাঁর হাত ধরে প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিল দলটি, অথচ এই মরশুমে পারফরম্যান্স একেবারেই হতাশাজনক। লিগ টেবিলে তারা এখন পাঁচ নম্বরে এবং এফএ কাপ থেকেও বিদায় নিতে হলো। তবে সামনে বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে লিভারপুলের জন্য।
চার দিনের মধ্যেই UEFA Champions League-এ প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন-এর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। সেই ম্যাচই এখন স্লটের কাছে ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই। জয় পেলে কিছুটা হলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। অন্যদিকে, এই জয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন গুয়ার্দিওলা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর দলকে আবার ছন্দে ফেরাতে পেরেছেন তিনি। লিগ কাপ জয়ের পর এফএ কাপে এই বড় জয় সিটির আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়াবে। একই সঙ্গে লিগ শিরোপার লড়াইয়েও তারা এখনও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে টিকে রইল।




















