IPL 2026: ১৫৪ কিমি গতিতে ঝড়, আইপিএলে নতুন গতিদানব অশোক শর্মা চমক

ভারতীয় ক্রিকেটে গতির ঝড় নতুন কিছু নয়। উমরান মালিক কিংবা ময়ঙ্ক যাদব-এর মতো পেসাররা ইতিমধ্যেই সমর্থকদের নজর কেড়েছেন। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল আরও একটি…

ashok-sharma-fastest-delivery

ভারতীয় ক্রিকেটে গতির ঝড় নতুন কিছু নয়। উমরান মালিক কিংবা ময়ঙ্ক যাদব-এর মতো পেসাররা ইতিমধ্যেই সমর্থকদের নজর কেড়েছেন। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল আরও একটি নাম অশোক শর্মা। ২০২৬ আইপিএলে (IPL 2026) নিজের অভিষেক মরশুমেই গতি ও আগ্রাসনে চমকে দিচ্ছেন এই তরুণ পেসার।
শনিবার রাতে গুজরাট টাইটান্সের হয়ে খেলতে নেমে অশোক শর্মা করে ফেললেন এবারের আইপিএলের দ্রুততম ডেলিভারি। ইনিংসের ১৬তম ওভারে তিনি ১৫৪.২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে একটি ভয়ঙ্কর ইয়র্কার করেন, যা সামলাতে হিমশিম খেতে হয় ধ্রুব জুরেল-কে। কোনওমতে ব্যাট নামিয়ে তিনি নিজের উইকেট বাঁচালেও, বলের গতি ও নিখুঁত লাইন-লেংথ দেখে স্পষ্ট ছিল—এই পেসার বিশেষ কিছু করতে চলেছেন।

শুধু একটি বল নয়, পুরো স্পেল জুড়েই অশোক ধারাবাহিকভাবে ১৪৫ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করেছেন। চার ওভারের স্পেলে তিনবার ১৫০ কিলোমিটার ছুঁয়েছেন তিনি। রাজস্থানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে ৩৭ রান দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেটও তুলে নেন এই ২৩ বছরের তরুণ।তবে অশোকের এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। এর আগে তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং রাজস্থান রয়্যালস-এর ক্যাম্পে থাকলেও একটিও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। এমন পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে একসময় ক্রিকেট ছেড়ে চাষবাস করার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। পরিবারের আর্থিক অনটনও ছিল বড় বাধা। তাঁর দাদা অক্ষয়, যিনি নিজেও ক্রিকেট খেলতেন, ভাইয়ের স্বপ্নপূরণের জন্য নিজের ক্যারিয়ার ত্যাগ করেন। সেই ত্যাগই আজ অশোকের সাফল্যের ভিত।

   

এই বছর গুজরাট টাইটান্স তাঁকে দলে নেয় এবং সুযোগ দেয় নিজেকে প্রমাণ করার। সেই সুযোগই কাজে লাগিয়ে এখন তিনি আলোচনার কেন্দ্রে। যদিও অশোকের দুর্দান্ত বোলিং সত্ত্বেও ম্যাচে জয় পায়নি গুজরাট। রানবন্যার ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে রাজস্থান রয়্যালস তোলে ২১০/৬। যশস্বী জয়সওয়াল-এর অর্ধশতরান, জুরেলের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস এবং বৈভব সূর্যবংশীর ঝোড়ো ব্যাটিং দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। জবাবে গুজরাটের হয়ে সাই সুদর্শন ৭৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন।

শেষ দিকে রশিদ খান (২৪) এবং কাগিসো রাবাদা (২৩*) লড়াই চালিয়ে যান। ম্যাচের শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৫ রান। কিন্তু সেখানেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন জোফ্রা আর্চার এবং তুষার দেশপান্ডে। দু’জনেই চাপে অসাধারণ বোলিং করে মাত্র ৪ রান করে দেন শেষ দুই ওভারে। ফলে গুজরাট থেমে যায় ২০৪/৮-এ, আর ৬ রানে ম্যাচ জিতে নেয় রাজস্থান রয়্যালস। ম্যাচের ফল যাই হোক, অশোক শর্মার পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতের জন্য বড় বার্তা।