তেহরান: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। (F-35 pilot captured)এই উত্তেজনার মাঝেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ইরানের একটি দাবি ঘিরে। শুক্রবার ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানায় আইআরজিসি র হাতে নাকি আটক হয়েছেন একটি মার্কিন F-35 Lightning II যুদ্ধবিমানের পাইলট। এই দাবি সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, পশ্চিম ইরানের আকাশে তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে একটি মার্কিন F-35 যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়। শুধু তাই নয়, ওই বিমানের পাইলটকেও জীবিত অবস্থায় আটক করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যদিও এই তথ্যের স্বপক্ষে কোনও স্বাধীন প্রমাণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনার পর ইরানের সরকারি মহল থেকেও পরোক্ষভাবে এই দাবিকে সমর্থন করার ইঙ্গিত মিলেছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, কারণ F-35 বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও অত্যাধুনিক স্টেলথ ফাইটার জেট হিসেবে পরিচিত।
আরও দেখুনঃ ভারতে ডিজিটাল পেমেন্টে জনপ্রিয়তা লাভ, মার্চে এক বিলিয়নেরও বেশি লেনদেন
তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করেছে আমেরিকা। ইউএস সেন্টকম র সরকারি X (টুইটার) হ্যান্ডল থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, “ইরান যে শত্রুপক্ষের বিমান ধ্বংস করার দাবি করেছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়ো।” অর্থাৎ, মার্কিন পক্ষ সরাসরি এই ঘটনাকে মিথ্যা প্রচার বলে দাবি করেছে। এই প্রথম নয়, এর আগেও আইআরজিসি দাবি করেছিল যে তারা একটি F-35 যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে।
এবার দ্বিতীয়বার একই ধরনের দাবি সামনে আসায় আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে এটি কি সত্যিই সামরিক সাফল্য, নাকি কৌশলগত প্রচার? বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে তথ্যযুদ্ধ (information warfare) একটি বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি প্রচার মাধ্যমেও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা করা হয়। ইরান ও আমেরিকার এই পারস্পরিক বিরোধ সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে।
এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনা। কয়েকদিন আগেই ইরানের কারাজ শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে হামলার অভিযোগ উঠেছিল ইসরায়েল এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে। যদিও এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ দায় স্বীকার করেনি, তবুও ইরান এর জন্য সরাসরি তাদেরকেই দায়ী করেছে।
এর জবাবে ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন মিত্র দেশগুলির গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো বিশেষ করে সেতুগুলিকে টার্গেট করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই আটটি সেতুকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করার কথাও জানানো হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ইরানের নতুন দাবি আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। যদি সত্যিই কোনও মার্কিন পাইলট আটক হয়ে থাকেন, তবে তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় সঙ্কট তৈরি করতে পারে। আবার যদি এই দাবি মিথ্যা হয়, তবে তা ইরানের প্রচারযুদ্ধের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।



















