থানে: সাতসকালে থানেতে ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। (ex-army man shooting)রাস্তায় বোনকে উতক্ত করছিল তিন যুবক আকবর আবদুল শেখ, আবদুল হাসান শেখ এবং সামির আহমেদ শেখ। চেষ্টা করছিল শ্লীলতাহানিরও। বোনের সম্মান বাঁচাতে তিনজনকেই গুলি করলেন প্রাক্তন সেনা সদস্য ৫১ বছর বয়সী জয়ন শিবানন্দন নায়ার। এতে আকবর আবদুল শেখ (২৯) ঘটনাস্থলেই মারা যায় এবং অপর দুজন আবদুল হাসান শেখ (৪৫) ও সামির আহমেদ শেখ (৩২) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। পুলিশ ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত নায়ারকে গ্রেফতার করেছে এবং তার কাছ থেকে একটি রিভলভার উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে মুম্ব্রার কৈলাস নগর এলাকার বিসমিল্লাহ চলের কাছে, সুমনতাই চভান হিন্দি প্রাইমারি স্কুলের সামনে। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকদিন ধরেই আবদুল হাসান শেখ, আকবর আবদুল শেখ ও সামির আহমেদ শেখ নামে তিনজন ওই যুবতীকে রাস্তায় দেখা হলে উত্যক্ত করতেন, অশ্লীল মন্তব্য করতেন এবং পিছু নিতেন। যুবতীকে নায়ার তার নিজের বোনের মতোই স্নেহ করতেন।
আরও দেখুনঃ বোনের শ্লীলতাহানির চেষ্টা! রাস্তার মাঝে আবদুল-আকবরকে গুলি প্রাক্তন সেনার
তিনি বারবার তাদের সতর্ক করলেও নিজেদেরকে সংশোধন করেনি তারা। বৃহস্পতিবার সকালে আবারও যখন ওই তিনজন যুবতীকে নিয়ে অশালীন আচরণ শুরু করেন, তখন নায়ার আর নিজেকে সামলাতে পারেননি।প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুসারে, নায়ার প্রথমে তাদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করেন। কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতিতে গড়ায়। এরপরই নায়ার তার কাছে থাকা দেশীয় রিভলভার বের করে প্রায় পাঁচ রাউন্ড গুলি চালান।
গুলিতে আকবর আবদুল শেখ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অন্য দুজনও গুরুতরভাবে আহত হয়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক, তবে চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছে। মুম্ব্রা পুলিশ স্টেশনের সিনিয়র ইন্সপেক্টর অনিল শিন্দে জানান, “অভিযুক্ত নায়ার তার পালিত বোনের মতো দেখা ওই যুবতীর শ্লীলতাহানির চেষ্টায় ক্ষিপ্ত হয়ে এই কাজ করেছেন। আমরা তাকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করেছি।
তার কাছ থেকে ব্যবহৃত রিভলভার উদ্ধার হয়েছে।” পুলিশ জানিয়েছে, নায়ারের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) খুন, খুনের চেষ্টা এবং অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি কীভাবে অস্ত্রটি সংগ্রহ করেছেন, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। নায়ারের কোনো পূর্ব অপরাধমূলক রেকর্ড নেই বলে জানা গেছে।এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, মুম্ব্রার এই অংশটি ঘনবসতিপূর্ণ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বাস করেন।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে কিছু উত্তেজনা দেখা দিলেও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অনেকেই বলছেন, নারীদের প্রতি উত্যক্তকরণের ঘটনা এলাকায় নতুন নয়। কিন্তু এমন প্রতিক্রিয়া কেউ আশা করেননি। নায়ার মূলত কেরালার বাসিন্দা, তবে দীর্ঘদিন মুম্ব্রায় থাকেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি সাধারণ জীবনযাপন করছিলেন। তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি খুবই শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিলেন।
কিন্তু পরিবারের মেয়ের সম্মান রক্ষার জন্য তিনি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন।পুলিশ এখন পুরো ঘটনার তদন্ত করছে। তারা যুবতীর বয়ানও রেকর্ড করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই ঘটনা শুধু একদিনের ছিল না, বেশ কয়েকদিন ধরেই তাকে উত্তক্ত করছিল ওই তিনজন। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “সমাজে নারী নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো দরকার। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেব।”



















