বিশ্বকাপের (World Cup 2026) আর মাত্র দু’মাসের কিছু বেশি সময় বাকি। এই গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে ফুটবল দুনিয়ায়। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও বিতর্ক। শুরু থেকেই শোনা যাচ্ছিল, আমেরিকায় গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অনিচ্ছুক ইরান।
অন্যদিকে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump ) এর বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে ইরানের ফুটবল দলকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের আমেরিকায় আসা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই মন্তব্যের পরই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে ইরান শিবিরে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা কোনও রাজনৈতিক চাপে নয়, নিজেদের যোগ্যতায় বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে এবং শুধুমাত্র কোনও দেশের ইচ্ছায় তাদের বাদ দেওয়া সম্ভব নয়।
এই পরিস্থিতিতে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে FIFA-র কাছে আবেদন করে, যেন তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো আমেরিকার বদলে মেক্সিকো বা কানাডায় সরিয়ে দেওয়া হয়। কারণ হিসেবে তারা তুলে ধরে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং চলমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনা। উল্লেখ্য, ইরানের গ্রুপের তিনটি ম্যাচই নির্ধারিত হয়েছে আমেরিকার মাটিতে, যেখানে তাদের মুখোমুখি হওয়ার কথা নিউজিল্যান্ড, মিশর এবং বেলজিয়ামের। তবে ফিফা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা কোনওভাবেই নির্ধারিত সূচি বা ভেন্যু পরিবর্তন করবে না। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে আগে থেকে নির্ধারিত পরিকল্পনা বদলানো সম্ভব নয়। সব দলকেই নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী খেলতে হবে। ফলে ইরানের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ (Mehdi Taj) ও এই প্রসঙ্গে নিজের মত প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ট্রাম্পের মন্তব্য থেকেই পরিষ্কার যে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই তারা বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ফিফার অবস্থান স্পষ্ট—বিশ্বকাপের ম্যাচ নির্ধারিত স্টেডিয়ামেই হবে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ফুটবলকে প্রভাবিত করছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত ইরান এই পরিস্থিতির মধ্যে আমেরিকায় গিয়ে খেলতে রাজি হয় কি না, নাকি এই বিতর্ক আরও বড় আকার নেয়।




















