শ্রীনগর: কাশ্মীরের মাঝামাঝি গান্দেরবাল জেলার আরাহামা এলাকায় রাতভর চলল গুলি। (Arahama operation)রাতভর তীব্র গুলিবিনিময়ের পর একজন জঙ্গিকে নিহত করেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। ‘অপারেশন আরাহামা’ নামে পরিচিত এই যৌথ অভিযান এখনও চলছে। সেনাবাহিনীর চিনার কর্পস জানিয়েছে, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের যৌথ দল মঙ্গলবার রাতে আরাহামা এলাকায় কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন (CASO) শুরু করে।
সন্দেহজনক স্থানে পৌঁছতেই লুকিয়ে থাকা জঙ্গিরা অন্ধকারে অস্ত্র তুলে গুলি চালায়। নিরাপত্তা বাহিনী তৎক্ষণাৎ পাল্টা জবাব দেয়। রাতের অন্ধকারে আলো-আঁধারির মধ্যে গুলির শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানান, “রাতের বেলা কর্ডনকে কৌশলগতভাবে পুনর্গঠন করা হয়। মাঝে মাঝে গুলিবিনিময় চলতে থাকে। আমাদের সেনারা সংযত ও কার্যকরী জবাব দিয়ে একজন জঙ্গিকে নিষ্ক্রিয় করে।”
আরও দেখুনঃ দেশে মহার্ঘ বিমান জ্বালানি! দামি হচ্ছে উড়ানের টিকিট?
নিহত জঙ্গির পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তার কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রাথমিক খবর। অভিযান এখনও চলমান, তাই আরও জঙ্গি লুকিয়ে থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেনা, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফ-এর যৌথ দল এলাকা ঘিরে রেখেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এলাকায় যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
আরাহামা গান্দেরবালের একটি বন্য ও পাহাড়ি এলাকা। এখানকার ঘন জঙ্গল ও উঁচু-নিচু ভূখণ্ড জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার উপযুক্ত জায়গা। স্থানীয় এক বাসিন্দা, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ফোনে বলেন, “রাতে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায়। জানালা দিয়ে দেখি আলোর ঝলকানি আর হেলিকপ্টারের আওয়াজ। আমরা ভয়ে ঘরের ভিতরেই থেকে যাই।
সকালে শুনলাম একজন জঙ্গি মারা গেছে। এখনও গুলির আওয়াজ আসছে।” এলাকার অনেক পরিবার উদ্বেগে রয়েছে। শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না, দোকানপাট বন্ধ।এই অভিযানের পিছনে ছিল নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, “আমরা খবর পেয়েছিলাম যে কয়েকজন জঙ্গি এই এলাকায় ঢুকেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল হয়তো কোনও বড় ঘটনা ঘটানো। সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে আমরা তাৎক্ষণিক অ্যাকশন নিয়েছি।”



















