দেশে মহার্ঘ বিমান জ্বালানি! দামি হচ্ছে উড়ানের টিকিট?

কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দামের সরাসরি প্রভাব এবার এসে পড়ল ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে। একলাফে বিপুল পরিমাণ দাম বাড়ল ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us

কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দামের সরাসরি প্রভাব এবার এসে পড়ল ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে। একলাফে বিপুল পরিমাণ দাম বাড়ল এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF) বা বিমান জ্বালানির। শুরুতে ১০০ শতাংশেরও বেশি দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হলেও, দেশীয় উড়ান সংস্থাগুলিকে বড়সড় স্বস্তি দিয়েছে কেন্দ্র। তবে এই আংশিক মূল্যবৃদ্ধির জেরেও আগামী দিনে দেশে বিমানের টিকিট মহার্ঘ হওয়ার জোরালো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক সূত্রে খবর, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং বিশ্বজুড়ে শক্তির বাজারে চরম অস্থিরতার কারণে ১ এপ্রিল থেকে বিমান জ্বালানির দামে ১০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের (IOC) প্রাথমিক পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, এটিএফ-এর দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে প্রতি কিলোলিটারে ২.০৭ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। তবে দেশীয় উড়ান সংস্থাগুলিকে এই চরম ধাক্কা থেকে বাঁচাতে তড়িঘড়ি হস্তক্ষেপ করে কেন্দ্র। তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMC) অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনার পর দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলির জন্য ধাপে ধাপে মাত্র ২৫ শতাংশ (লিটার প্রতি প্রায় ১৫ টাকা) দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিদেশি রুটের বিমানগুলির ক্ষেত্রে এই ছাড় মিলছে না। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের সম্পূর্ণ বর্ধিত মূল্যই দিতে হবে।

   

সংশোধিত নতুন হার অনুযায়ী, দিল্লিতে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলির জন্য এটিএফ-এর দাম প্রতি কিলোলিটারে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.০৪ লক্ষ টাকা। কলকাতা এবং চেন্নাইয়ের মতো শহরগুলিতে এই দাম ১.০৯ লক্ষ টাকার গণ্ডি পার করলেও, মুম্বইতে তা তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম (প্রায় ৯৮,০০০ টাকা)। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৫ ডলার এবং ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড ১০২ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার কারণেই জ্বালানির এই বিপুল মূল্যবৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে।

এমনিতেই বিমান সংস্থাগুলির মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই খরচ হয় জ্বালানির পিছনে। তার ওপর পশ্চিম এশিয়ার আকাশসীমায় বিধিনিষেধের কারণে এখন উড়ানগুলিকে ঘুরপথে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, ফলে জ্বালানি খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গিয়েছে। পাশাপাশি ডলারের তুলনায় টাকার দামের পতন খরচ আরও বাড়িয়েছে। এই সাঁড়াশি চাপের মধ্যে বিমান সংস্থাগুলিকে কিছুটা স্বস্তি দিতে রাজ্য সরকারগুলির কাছে এটিএফ-এর ওপর থেকে ভ্যাট (VAT) কমানোর আর্জি জানিয়েছেন অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নাইডু। বর্তমানে বিভিন্ন রাজ্যে এই ভ্যাটের হার ১৮ থেকে ২৯ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হলে আগামী দিনে জ্বালানির দাম ধাপে ধাপে আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তেল সংস্থাগুলি।

ফুয়েলের দাম একলাফে দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় উড়ানের টিকিটের খরচ আগামী দিনে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াকিবহাল মহল। যদিও ডোমেস্টিক উড়ান সংস্থাগুলির জন্য অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা ATF-এর মূল্যবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তবে এই বৃদ্ধির পরে বিমান সংস্থাগুলি টিকিটের ভাড়া নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখার।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google