দেরাদুন: উত্তরাখণ্ডে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। সমগ্র রাজ্যে চলতি মাসেই বন্ধ হতে চলেছে ইসলামিক বোর্ড বা মাদ্রাসা।(madrassa shutdown) মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নেতৃত্বে সরকার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছে। চলতি মাস থেকেই এই বোর্ড আর থাকবে না। তার বদলে গঠন করা হয়েছে উত্তরাখণ্ড স্টেট মাইনরিটি এডুকেশন অথরিটি। আর সবচেয়ে আলোচিত বিষয় প্রায় ২৫০টিরও বেশি অবৈধ মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সেগুলোর স্ট্যাটাস বদলে এখন সেখানে আধুনিক স্কুল চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক, প্রতিক্রিয়া আর মানসিক অস্থিরতা।মুখ্যমন্ত্রী ধামি স্পষ্টভাবে বলেছেন, “আমরা চাই না এই প্রতিষ্ঠানগুলো ‘জিহাদি’ মানসিকতার প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠুক। বরং এগুলোকে জ্ঞানের মন্দিরে পরিণত করতে চাই।” তাঁর কথায়, অনেক মাদ্রাসা শিশুদের ভুল পথে চালিত করছিল।
আরও দেখুনঃ ভোটার তালিকায় নাম উধাও! বসিরহাটে বিক্ষোভ
তাই অবৈধ মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে সেখানে বিজ্ঞান, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান, কম্পিউটারের মতো আধুনিক বিষয় পড়ানো হবে। নতুন নিয়ম অনুসারে, জুলাই ২০২৬ থেকে সব মাইনরিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজ্য শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আনা হবে। ধর্মীয় শিক্ষা শুধুমাত্র নিয়মিত ক্লাসের পরে চলতে পারবে।এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
উত্তরাখণ্ডে মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে প্রায় ৪৫০টির মতো নিবন্ধিত মাদ্রাসা ছিল, যেখানে ৪০ হাজারেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করত। এখন অনেক অভিভাবকের মনে প্রশ্ন আমাদের বাচ্চারা কোথায় পড়বে? কীভাবে তাদের ধর্মীয় শিক্ষা চলবে? এক মাদ্রাসা শিক্ষক, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, চোখে জল নিয়ে বললেন, “এতদিন আমরা শুধু কুরআন, হাদিস আর আরবি-ফার্সি পড়াতাম। এখন সবকিছু বদলে যাবে।
ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”অন্যদিকে, সরকারের সমর্থকরা এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করছেন। তাঁদের মতে, অনেক মাদ্রাসায় নিবন্ধন ছিল না, সেখানে কোনও মান নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কিছু প্রতিষ্ঠানে বহিরাগত অর্থায়নের অভিযোগও উঠেছে। তাই সরকার ‘অপারেশন কলনেমি’-এর মতো অভিযান চালিয়ে অবৈধ মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করেছে। দেহরাদুন, হরিদ্বার, উধম সিং নগর, নৈনিতাল বিভিন্ন জেলায় এই অভিযান চলেছে। কোথাও তালা ঝুলিয়ে, কোথাও সিল করে দেওয়া হয়েছে ভবনগুলো।



















