কলকাতা: নদিয়ার রানাঘাটে ভোটের প্রশিক্ষণকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। (Ranaghat)হাঁসখালির বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্য-কে মঙ্গলবার সাসপেন্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক মহল থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন সব জায়গাতেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। নদিয়ার রানাঘাটের দেবনাথ ইনস্টিটিউট ফর বয়েজ স্কুল-এ চলছিল ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ শিবির। অভিযোগ, প্রশিক্ষণের শুরুতেই প্রোজেক্টরের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ভিডিও দেখানো হচ্ছিল, যার মধ্যে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের দৃশ্যও ছিল। এই ঘটনাকে আদর্শ নির্বাচনী বিধির পরিপন্থী বলে প্রতিবাদ জানান ওই স্কুলের শিক্ষক সৈকত চট্টোপাধ্যায়।
সৈকতবাবুর অভিযোগ, তাঁর প্রতিবাদের পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি দাবি করেন, কিছু দুষ্কৃতী আচমকাই তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্যদের সামনেই এই হামলা চালানো হয় বলে তাঁর অভিযোগ। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন দ্রুত নড়েচড়ে বসে। প্রথমে বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যকে শোকজ় নোটিস পাঠানো হয়। কমিশন জানতে চায়, কীভাবে এই ধরনের ঘটনা প্রশিক্ষণ শিবিরের মতো সংবেদনশীল জায়গায় ঘটল এবং প্রশাসনের তরফে যথাযথ ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়নি। কমিশনের কাছে জমা পড়া প্রাথমিক রিপোর্ট এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করেই শেষ পর্যন্ত সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। শুধু সাসপেনশনই নয়, কমিশন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখছে বলেই বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




















