ওয়াশিংটন: পশ্চিম এশিয়ার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেই এবার বড়সড় শান্তির ইঙ্গিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার দাবি করেছেন, চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ওয়াশিংটনের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাবের ‘অধিকাংশই’ মেনে নিয়েছে ইরান। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনার ভিত্তিতেই এই কাঠামোগত চুক্তিটি তেহরানের কাছে পৌঁছায়।
কী বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?
ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তেহরান মার্কিন শর্তাবলীতে মূলত রাজি হয়েছে। তাঁর কথায়, “ওরা আমাদের বেশিরভাগ শর্তই মেনে নিয়েছে। কেনই বা মানবে না?” তবে আলোচনা এগোলে আমেরিকা আরও বেশ কিছু নতুন দাবি পেশ করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এই আলোচনাকে ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ’ উভয়ই আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প জানান, বৈঠকগুলি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। শুধু তাই নয়, আস্থার বার্তা হিসেবে ইরান ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ তেল পাঠিয়েছে বলেও দাবি তাঁর। ট্রাম্পের কথায়, “ওরা আমাদের ১০টি বিশাল জাহাজ ভর্তি তেল উপহার দিয়েছে।” সোমবার থেকে আরও ২০টি তেলের চালান আসার কথা রয়েছে। “ওরা যে সত্যিই এই চুক্তি নিয়ে সিরিয়াস, এটা তারই প্রমাণ,” মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
কী আছে আমেরিকার এই ১৫ দফা প্ল্যানে?
সম্পূর্ণ চুক্তির নথি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী এর মূলে রয়েছে তিনটি বড় শর্ত এবং কিছু আর্থিক ছাড়-
১. পরমাণু কর্মসূচিতে ইতি: এই চুক্তির প্রধান শর্ত হল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সম্পূর্ণ বিনাশ। ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করা, নাতাঞ্জ (Natanz), ফোর্ডো (Fordow) এবং ইসফাহান (Isfahan)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলি বন্ধ করে দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পূর্ণ ছাড়পত্র দেওয়ার দাবি জানিয়েছে আমেরিকা।
২. ‘প্রক্সি’ মডেলে কোপ: আরেকটি বড় শর্ত হল, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে হিজবুল্লা এবং হুথি-র মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে অর্থ ও অস্ত্র জোগানো বন্ধ করতে হবে ইরানকে।
৩. হরমুজ প্রণালী ও যুদ্ধবিরতি: বিশ্বজুড়ে তেলের তীব্র হাহাকারের কথা মাথায় রেখে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আলোচনার জন্য প্রায় এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও রয়েছে এই চুক্তিতে।
শর্ত মানলে কী পাবে ইরান?
মানি কন্ট্রোল-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিপুল ছাড়ের বিনিময়ে আমেরিকার কাছ থেকে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার-এর সুবিধা পাবে তেহরান। পাশাপাশি, কড়া নজরদারির অধীনে অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর অনুমতি এবং ‘স্ন্যাপব্যাক’ নিষেধাজ্ঞার মেকানিজম বাতিলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মত: যদিও ‘দ্য গার্ডিয়ান’ মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, এই প্রস্তাবগুলি একেবারেই নতুন নয়। এটি আদতে ২০২৫ সালের সেই ব্যর্থ চুক্তিরই নতুন রূপ, যা ইজরায়েলি হামলার পর ভেস্তে গিয়েছিল। এখন দেখার, ট্রাম্পের এই নতুন দৌত্য মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরাতে পারে কি না।



















