ধানবাদ: ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলার বলিয়াপুর থানা এলাকায় রামনবমী উপলক্ষে আয়োজিত (Ram Navami clash)শোভাযাত্রার সময় বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছিল একদল সমাজ বিরোধী। শুক্রবার বলিয়াপুরের ভিখরাজপুর এলাকায় শোভাযাত্রা চলাকালীন হঠাৎ হিন্দু মুসলিম দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয় এবং তা দ্রুত পাথর ছোড়াছুড়িতে রূপ নেয়। এতে কয়েকজন সাধারণ মানুষসহ পুলিশ কর্মীও আহত হন। তবে পুলিশ দ্রুত তৎপর হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সঙ্গে সঙ্গে দাঙ্গা তৈরির চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়। শুক্রবার রাতের মধ্যেই ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়া ও উত্তেজনা ছড়ানোর নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিরাও রয়েছে। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে শনিবার সকালে বলিয়াপুরের রাস্তায় প্যারেড করিয়ে নিয়ে যায়।
হাতে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় অভিযুক্তদের রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে বলছেন, “আইনের অমান্য করলে এভাবেই শাস্তি পেতে হয়।”ঘটনার বিবরণ অনুসারে, রামনবমীর শোভাযাত্রা শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে চলছিল। ভক্তরা ভগবান রামের নামে স্লোগান দিতে দিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছতেই কিছু লোক ধর্মীয় পতাকা ও আনন্দ-উৎসব নিয়ে আপত্তি তোলে।
এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পাথর ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ধানবাদের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, “রামনবমী একটি ধর্মীয় উৎসব। এতে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করার অধিকার সবার আছে।
কিন্তু কেউ বা কারা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করে, তাহলে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছি। এই প্যারেডের মাধ্যমে আমরা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই যে, আইনের শাসন বজায় রাখা হবে।” পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার হতে পারে।



















