কাঠমাণ্ডু: নেপালের রাজনীতিতে ফের বড়সড় চমক। শনিবার সাতসকালে আচমকাই গ্রেফতার হলেন নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ‘জেন-জি’ বা ছাত্র-যুব সমাজের বিক্ষোভে মাত্রাছাড়া পুলিশি দমনপীড়ন এবং খুনের অভিযোগেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একই মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন নেপালের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকও। ভক্তপুরে নিজেদের বাসভবন থেকেই এই দুই শীর্ষ নেতাকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ৷ আদালতে এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেলের সাজা হতে পারে।
রক্তক্ষয়ী ‘জেন-জি’ বিপ্লবের জের
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতি, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতিবাদে নেপালের বুকে ব্যাপক গণআন্দোলন আছড়ে পড়েছিল। ইন্টারনেট ব্যবহারের স্বাধীনতা দিয়ে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন খুব দ্রুত তীব্র সরকার-বিরোধী রূপ নেয়। অভিযোগ, সেই সময় ওলি সরকারের নির্দেশে হওয়া প্রবল পুলিশি ক্র্যাকডাউনে অন্তত ৭৬ জন আন্দোলনকারীর প্রাণ যায় এবং দু’হাজারের বেশি মানুষ গুরুতর জখম হন।
কমিশনের রিপোর্টে কাঠগড়ায় ওলি KP Sharma Oli arrest
আন্দোলনের প্রথম দিনেই পুলিশের গুলিতে ১৯ জন প্রতিবাদী তরুণের মৃত্যু হয়। একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন এই হত্যাকাণ্ডের দায় সরাসরি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ঘাড়েই চাপিয়েছে।
কমিশনের সাফ দাবি, দেশের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে এই রক্তপাতের দায় ওলি কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। প্রাক্তন পুলিশ প্রধান চন্দ্র কুবের খাপুং-সহ আরও বেশ কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে ওই রিপোর্টে।
অন্যদিকে, একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ওলি কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানিয়েছেন, এই রিপোর্ট অত্যন্ত গাফিলতিপূর্ণ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই তাঁর চরিত্রহননের চেষ্টা চলছে।
নতুন সরকারের শপথের পরই পদক্ষেপ
গত ৫ মার্চের সাধারণ নির্বাচনে দীর্ঘদিনের বাম-ঘাঁটি ঝাপা-৫ কেন্দ্রে র্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া বালেন শাহের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন ওলি। কাকতালীয়ভাবে, শুক্রবারই নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন সেই বালেন শাহ (Rastriya Swatantra Party)। আর তাঁর শপথ নেওয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গরাদের পিছনে যেতে হল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে।




















