নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে যে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, এবার তার সরাসরি কোপ পড়ল ভারতীয় মুদ্রায়। শুক্রবার মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার দামে সর্বকালীন পতন দেখা গেল। সমস্ত রেকর্ড ভেঙে এদিন ডলারের নিরিখে টাকার দাম ৯৪-এর গণ্ডি পার করে গিয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের।
পতনের খতিয়ান ঠিক কতটা?
শুক্রবার দিনের বেলায় বাজার চলাকালীন এক ডলারের নিরিখে টাকার দাম হুড়মুড়িয়ে নেমে দাঁড়ায় ৯৪.১৫৭৫-এ। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই টাকার দাম ৯৩.৯৮-এ নেমেছিল, যা ছিল আগের সর্বকালীন পতন। গত মাসের শেষে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ভারতীয় মুদ্রার প্রায় ৩.৫ শতাংশ পতন হয়েছে, যা টাকার ওপর ক্রমাগত তৈরি হওয়া বিপুল চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নেপথ্যে জ্বালানি সঙ্কট ও তেলের আগুন দাম
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, টাকার এই ব্যাপক পতনের মূল কারণ হলো বিশ্বজুড়ে ঘনাতে থাকা জ্বালানি সরবরাহের সঙ্কট। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেলের জোগানে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে বিশ্বজুড়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের জন্য আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকায় দেশের আমদানি খরচ একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে।
এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে আগের চেয়ে অনেক বেশি ডলার খরচ করতে হচ্ছে, যার সরাসরি চাপ এসে পড়ছে টাকার ওপর। তেলের এই দাম বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী শেয়ার এবং বন্ড মার্কেটকেও প্রভাবিত করেছে।
মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা ও আরবিআই-এর সম্ভাব্য পদক্ষেপ
এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির জেরে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যেই ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির (Growth) পূর্বাভাস কমাতে শুরু করেছেন।জ্বালানির দাম বাড়লে দেশে মূল্যবৃদ্ধি বা মুদ্রাস্ফীতি মাথাচাড়া দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) আগামী ১২ মাসের মধ্যে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আগামী দিনে আরও পতনের ইঙ্গিত!
যুদ্ধ খুব বেশিদিন স্থায়ী না হলেও ভারতীয় অর্থনীতির ওপর ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। গ্লোবাল ব্রোকারেজ ফার্ম ‘বার্নস্টেইন’ জানিয়েছে যে, পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে চলতি বছরেই টাকার দাম আরও কমে ডলার পিছু ৯৮-এ নেমে যাওয়ার বাস্তবসম্মত আশঙ্কা রয়েছে। মূলত ভারতের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্সের ওপর চাপ বাড়ার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আপাতত আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং তেলের দামের গতিপ্রকৃতির ওপরই নির্ভর করছে টাকার ভবিষ্যৎ।




















