কলকাতা: বসন্তের বিকেলে আচমকাই বদলে গেল কলকাতার আবহাওয়া। বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ বিকেল গড়াতেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় আছড়ে পড়ল কালবৈশাখী। প্রবল দমকা হাওয়া এবং মুষলধারে বৃষ্টির জেরে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে শহরের জনজীবন। দুর্যোগের জেরে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমান। কলকাতা বিমানবন্দরে নামতে না পেরে দীর্ঘক্ষণ মাঝ-আকাশেই চক্কর কাটতে হয় সেটিকে।
কোথায় কেমন প্রভাব?
হঠাৎ আসা এই ঝড়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে৷ বিধাননগর ও দমদম এয়ারপোর্টে প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট দেখা যায়। বাগুইহাটি এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একাধিক জায়গায় রীতিমতো শিলাবৃষ্টি শুরু হয়েছে। ঝড়ের তীব্র ধাক্কায় কলেজ স্কোয়ার এলাকায় বড় গাছ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
কয়েকদিন ধরে বাড়তে থাকা গরমের মাঝেই আচমকা এই বৃষ্টির জেরে শহরের তাপমাত্রা একধাক্কায় বেশ কিছুটা কমে এসেছে। সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও রাস্তায় থাকা যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
আকাশে আটকাল মুখ্যমন্ত্রীর বিমান Kolkata Kalbaishakhi Storm
এদিন বৃষ্টির দাপটে এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার কারণে কলকাতা বিমানবন্দরে নামতে পারছিল না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড বিমান। দমদমে নামার কথা থাকলেও, দুর্যোগের কারণে ক্লিয়ারেন্স না মেলায় বাধ্য হয়েই আকাশে দীর্ঘক্ষণ চক্কর কাটতে হয় সেটিকে।
কেন এই হঠাৎ দুর্যোগ? কী বলছে হাওয়া অফিস?
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, আবহাওয়ার এই হঠাৎ পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে জোড়া ঘূর্ণাবর্ত। উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ এবং সংলগ্ন এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯০০ মিটার উচ্চতায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে।
এছাড়া দক্ষিণ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় থাকা অপর একটি ঘূর্ণাবর্ত বর্তমানে দক্ষিণ-গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং লাগোয়া উত্তর ওড়িশার উপরে অবস্থান করছে। মূলত এর জেরেই বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকে এই ঝড়বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলার পূর্বাভাস
আগেই হাওয়া অফিসের তরফে ২৬ মার্চ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় হালকা বৃষ্টি ও ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। সেই তালিকায় কলকাতা ছাড়াও রয়েছে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা।




















