নয়াদিল্লি, ২৬ মার্চ: ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর (আইসিজি) জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পোরবন্দরে এএলএইচ ধ্রুব হেলিকপ্টার (ALH Dhruv Helicopter) দুর্ঘটনার পর স্থগিত থাকা সম্পূর্ণ ধ্রুব বহরটি এখন ধীরে ধীরে পরিষেবাতে ফিরছে। প্রায় ১৫ মাস পর কোস্ট গার্ড পর্যায়ক্রমে এই হেলিকপ্টারগুলো পুনরায় ওড়ানো শুরু করেছে।
প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, কোস্ট গার্ডের ধ্রুব হেলিকপ্টারগুলো গত দুই সপ্তাহ ধরে সীমিত পরিসরে অভিযান চালাচ্ছে। এই অভিযান কোচি থেকে শুরু হয়, এরপর ভুবনেশ্বর ও চেন্নাই ঘাঁটি থেকেও তা পরিচালিত হয়। পরবর্তী পর্যায়ে এগুলো পোরবন্দরেও সক্রিয় হবে। বর্তমানে হেলিকপ্টারগুলো নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই ওড়ানো হচ্ছে এবং প্রায় ১০০ ঘণ্টা উড্ডয়নের পর সেগুলোর একটি বিস্তারিত কারিগরি পরিদর্শন করা হবে। এবার এই পরিদর্শনটি স্বাভাবিকের চেয়ে আগে করা হচ্ছে, যাতে যেকোনো কারিগরি ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
আন্তর্জাতিক নৌবহর পর্যালোচনা চলাকালীন ধ্রুব হেলিকপ্টার দেখা গিয়েছিল। বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নৌবহর পর্যালোচনা চলাকালীন নৌবাহিনীর ধ্রুব হেলিকপ্টারগুলোকেও উড়তে দেখা যায়, যদিও বর্তমানে সেগুলোও পর্যায়ক্রমে পরিচালনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, পোরবন্দরের দুর্ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডের ৩০০টিরও বেশি এএলএইচ ধ্রুব হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর পরে, হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের (এইচএএল) ত্রুটি তদন্তকারী দল একটি বিস্তারিত তদন্ত পরিচালনা করে। পরিদর্শনের পর সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারগুলোকে ১ মে উড্ডয়নের ছাড়পত্র দেওয়া হলেও নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের ধ্রুব হেলিকপ্টারগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি, কারণ এই হেলিকপ্টারগুলো বিশেষভাবে সামুদ্রিক অভিযানের জন্য তৈরি।
ধ্রুব হেলিকপ্টারের বৈশিষ্ট্য
নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর ধ্রুব হেলিকপ্টারগুলো বিভিন্ন ধরনের সেন্সর দিয়ে সজ্জিত এবং এগুলো যুদ্ধজাহাজের ডেকে অবতরণের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এর ফলে ল্যান্ডিং গিয়ার আরও শক্তিশালী হয় এবং সামনের দিক থেকে দৃষ্টিসীমা উন্নত হয়। এছাড়াও, সমুদ্রে জরুরি অবতরণের জন্য এগুলিতে ফ্লোটেশন ডিভাইস লাগানো থাকে, যা হেলিকপ্টারটিকে সঙ্গে সঙ্গে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। বহরের দিক থেকে, কোস্ট গার্ডের কাছে বর্তমানে ১৮টি ধ্রুব হেলিকপ্টার রয়েছে এবং আরও ছয়টি হেলিকপ্টার কেনার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছেও ১৮টি এএলএইচ রয়েছে।
ধ্রুব হেলিকপ্টারগুলি ভারতীয় সেনাবাহিনীর জীবনরেখা
সেনাবাহিনীই এএলএইচ-এর বৃহত্তম ব্যবহারকারী, যাদের কাছে প্রায় ১৪৫টি ধ্রুব হেলিকপ্টার রয়েছে, যার মধ্যে মার্ক-৪ রুদ্র-এর ৭৫টি অস্ত্রসজ্জিত সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত। সেনাবাহিনী এইচএএল-কে আরও ২৫টি এএলএইচ মার্ক-৩ হেলিকপ্টারের অর্ডার দিয়েছে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর কাছে প্রায় ৭০টি ধ্রুব হেলিকপ্টার রয়েছে। ধ্রুব হেলিকপ্টারকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর লাইফলাইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা উচ্চ হিমালয় অঞ্চল থেকে শুরু করে সামুদ্রিক অভিযান পর্যন্ত সব ধরনের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে, সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হওয়ার আগে কঠোর পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার অধীনে পর্যায়ক্রমে সমস্ত হেলিকপ্টার ওড়ানো হচ্ছে।




















