নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের জেরে লণ্ডভণ্ড বিশ্ববাজারের সরবরাহ শৃঙ্খল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের জোগানে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ফের রাশিয়ার শরণাপন্ন হলো ভারত। আগামী মাসে সরবরাহের জন্য ভারত প্রায় ৬০ মিলিয়ন ব্যারেল রুশ তেল কেনার বরাত দিয়েছে।
দ্বিগুণ হল আমদানির পরিমাণ
পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমান মাসে ভারত যে পরিমাণ তেল রাশিয়া থেকে আমদানি করছে, আগামী মাসের লক্ষ্যমাত্রা তার প্রায় দ্বিগুণ। ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার নজরকাড়া। মূলত ইরাক ও সৌদি আরব থেকে আসা তেলের কার্গোগুলি পারস্য উপসাগরে আটকে পড়ায় ভারতীয় শোধনাগারগুলি ফের রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে। ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি এবং হিন্দুস্তান মিত্তল এনার্জি লিমিটেডের মতো সংস্থাগুলি দীর্ঘ বিরতির পর ফের রুশ তেল কেনা শুরু করেছে।
আমেরিকার বিশেষ ছাড় ও কূটনৈতিক জয় India Russian Oil Import
রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, বর্তমান যুদ্ধের আবহে ভারত এক বিশেষ ছাড় পেয়েছে। ৫ মার্চের আগে যে সব রুশ তেলের কার্গো জাহাজে লোড করা হয়েছিল, তা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আমেরিকা। পরে এই সময়সীমা ১২ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। দিল্লির আধিকারিকদের মতে, যতক্ষণ হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা কাটছে না, ততক্ষণ এই ছাড় বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলা ও অন্যান্য উৎস
শুধু রাশিয়া নয়, ভারত তার তেলের উৎস বহুমুখী করার চেষ্টাও চালাচ্ছে। এপ্রিল মাসে ভেনেজুয়েলা থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ ব্যারেল তেল আসার কথা রয়েছে, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ। এর পাশাপাশি টেক্সাস থেকে এলপিজি (LPG) ভর্তি জাহাজ ইতিমধ্যেই নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছেছে।
বন্দর ও জাহাজ মন্ত্রকের তৎপরতা
শিপিং মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের কোনও বন্দরেই বর্তমানে জট নেই। পারস্য উপসাগরে থাকা ২২টি ভারতীয় জাহাজ এবং ৬১১ জন নাবিক সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন। বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, পরিস্থিতির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে। এমনকি আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করতে নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দর কর্তৃপক্ষ ১৪ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে আসা তেল ও এলপিজি কার্গোর ওপর থেকে শুল্ক মকুব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উপসংহার: বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও রাশিয়ার সঙ্গে এই বড় মাপের চুক্তি ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।




















