
কলকাতা: উত্তরবঙ্গে ফের দুর্যোগের আশঙ্কা জোরাল, (weather update)আর সেই কারণেই আজ ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে কমলা সতর্কতা জারি করল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। যদিও দক্ষিণবঙ্গে আপাতত বড়সড় কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস নেই, তবুও আংশিক মেঘলা আকাশ ও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে গোটা পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া পরিস্থিতি এখন এক অদ্ভুত দ্বৈত চরিত্র ধারণ করেছে।
আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় আজ বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরও দেখুনঃ চকলেটের টোপ দিয়ে নাবালিকাকে অত্যাচার! যোগী রাজ্যে গণধোলাই খেল মৌলানা ইজরায়েল
পাহাড়ি অঞ্চলে এমন আবহাওয়ার কারণে ভূমিধসের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পর্যটকদেরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা দার্জিলিং বা কালিম্পং ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের আবহাওয়ার আপডেট দেখে তবেই যাত্রা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শান্ত। কলকাতা-সহ বেশিরভাগ জেলায় আজ বড় ধরনের ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে এবং কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টিও হতে পারে। ফলে গরমের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি বজায় থাকবে।
গত দু’দিনের বৃষ্টির প্রভাবে কলকাতার তাপমাত্রাও কিছুটা কম রয়েছে। আজ শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম। এতে শহরবাসী সাময়িক স্বস্তি পেলেও, এই আরাম বেশি দিন স্থায়ী হবে না বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে আবহাওয়া দফতর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করবে। তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, ফলে ফের অস্বস্তিকর গরম ফিরে আসবে দক্ষিণবঙ্গে। বিশেষ করে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি আরও বেশি হতে পারে। এই পরিবর্তনশীল আবহাওয়া পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে মৌসুমি বায়ুর গতিপ্রকৃতি এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব। উত্তরবঙ্গে এর প্রভাব বেশি পড়ায় সেখানে বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ছে, অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গ ধীরে ধীরে শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ার দিকে এগোচ্ছে।

