মুম্বই: ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার (Sunil Gavaskar) পাকিস্তানি এক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নিয়ে উঠে আসা তীব্র সমালোচনার মুখে কড়া জবাব দিয়েছেন। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ চলাকালীন একটি পাকিস্তানি ক্রিকেট অনুষ্ঠানে ধারাভাষ্যকার ও প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত থাকার পর তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এতে কি তাঁর নিজের পূর্বের মন্তব্যের সঙ্গে অসঙ্গতি নেই? গাভাস্কার স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর অবস্থানে কোনও পরিবর্তন নেই এবং তিনি ভারতীয়দের পাকিস্তানিদের অর্থ দেওয়া বন্ধ করার পক্ষেই রয়েছেন।
কী নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা?
সম্প্রতি ‘দ্য হান্ড্রেড’ লিগের নিলামে সানরাইজার্স লিডস ফ্র্যাঞ্চাইজি পাকিস্তানি স্পিনার আবরার আহমেদকে ১,৯০,০০০ পাউন্ড স্টার্লিং (প্রায় ২.৩৫ কোটি টাকা) দিয়ে কিনে নেয়। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা রয়েছে চেন্নাই-ভিত্তিক একটি শিল্পগোষ্ঠীর হাতে, যারা আইপিএল-এ সানরাইজার্স হায়দরাবাদেরও মালিক। পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই কেনাকাটাকে অনেকে সমালোচনা করেন।
গাভাস্কার তাঁর ‘মিড-ডে’ কলামে লিখেছিলেন, “পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের যে অর্থ দেওয়া হয়, সেই টাকার একাংশ আয়কর হিসেবে পাকিস্তান সরকারের কাছে যায়। আর সেই সরকার সেই অর্থ দিয়ে অস্ত্র কেনে— যা পরোক্ষভাবে ভারতীয় সেনা ও নাগরিকদের প্রাণহানির কারণ হয়। ভারতীয় মালিকানাধীন সংস্থা হলে এটা ভারতীয়দেরই সহায়তা করছে।” তিনি যোগ করেন, “ভারতীয় সংস্থাগুলো এখন পাকিস্তানি শিল্পী-ক্রীড়াবিদদের কাজে নেওয়া থেকে বিরত থাকছে।”
পাকিস্তানি অনুষ্ঠানে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন, গাভাস্কারের কড়া জবাব
মুম্বই মিরর-এর সঙ্গে আলাপকালে গাভাস্কারকে প্রশ্ন করা হয়, এশিয়া কাপে আইসিসি ও এসিসি-র ধারাভাষ্য প্যানেলে কাজ করার সময় তো টুর্নামেন্টের আয়ের একাংশ পাকিস্তানও পায়। এতে কি আপনার সমালোচনার সঙ্গে অসঙ্গতি নেই?
গাভাস্কার স্পষ্ট জবাব দেন: “হ্যাঁ, আমি আইসিসি ও এসিসি-র ধারাভাষ্য প্যানেলে কাজ করেছি। সেই আয় অংশগ্রহণকারী সব দেশের মধ্যে ভাগ হয়। কিন্তু আমার জানামতে কোনও ভারতীয় সংস্থা থেকে সরাসরি পাকিস্তানে টাকা যায় না। আমি কোনও ধারাভাষ্যকারকে অর্থ দিচ্ছি না, সে ভারতীয় হোক বা অন্য দেশের। তাই আমি কীভাবে অবদান রাখছি বলছেন?”
তিনি আরও যোগ করেন, “অন্য খেলাধুলা বা সংশ্লিষ্টরা কী করছেন, আমি জানি না। আমি শুধু প্রার্থনা করি যেন ভারতীয়রা পাকিস্তানিদের অর্থ দেওয়া বন্ধ করে। গত কয়েক দশকে পাকিস্তানিরা ভারতীয়দের অর্থ দিয়েছে, এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি, বা ঘটলেও খুব কম।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
গাভাস্কারের এই মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একাংশ তাঁর অবস্থানকে সমর্থন করছেন এবং বলছেন, “সানি স্পষ্ট কথা বলেছেন, ভারতীয় টাকা পাকিস্তানে যাওয়া উচিত নয়।” অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, “ক্রিকেটকে রাজনীতির সঙ্গে মেশানো ঠিক নয়, গাভাস্কার নিজেও পাকিস্তানি টিভিতে কাজ করছেন।”
এই বিতর্ক দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্ক এখনও রাজনৈতিক উত্তেজনার ছায়ায় রয়েছে। গাভাস্কারের মতো কিংবদন্তির এমন স্পষ্ট অবস্থান অনেকের কাছে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
(প্রতিবেদনটি মুম্বই মিরর সাক্ষাৎকার, মিড-ডে কলাম ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে তৈরি।)




















