কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে চড়ছে পারদ। (TMC 74 MLAs )হিসেবে উল্টে দিয়ে প্রার্থী তালিকায় চমক দিয়েছে তৃণমূল। ৭৪ জন বিধায়ককে টিকিট দেয়নি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এই আবহেই আজ বিস্ফোরক দাবি করলেন খড়গপুর সদরের প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন এই বাদ পড়া ৭৪ জন বিধায়কের অধিকাংশই বিজেপির টিকিটের আশায় যোগাযোগ করেছেন শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “তৃণমূলের বিধায়ক, মন্ত্রী অনেকেই এতদিন ‘কাটমানি’ খেয়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এখন হঠাৎ করে টিকিট না পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা অখুশি। ৭৪ জনের টিকিট কাটা হয়েছে, তাই অনেকেই বিকল্প খুঁজছেন। আমার জানা মতে, তাঁদের মধ্যে অন্তত অর্ধেক বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।” তবে এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “গতবার আমরা ভুল করেছিলাম। অনেক হারতে বসা লোককে দলে নিয়ে টিকিট দিয়েছিলাম, যার ফল ভুগতে হয়েছে। এবার বিজেপি সেই ভুল করবে না। কাউকে সহজে দলে নেওয়া হবে না।”
আরও দেখুনঃ কৌশল্যার কালীপুজোয় ভোট প্রচারে মুখোমুখি দিলীপ ও প্রদীপ
দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও এই দাবির সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে যে, প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে মূলত সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও তরতাজা করতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় সংখ্যায় বর্তমান বিধায়কদের বাদ দেওয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় ঝুঁকি। একদিকে নতুন মুখ আনার মাধ্যমে দল ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছে, অন্যদিকে অসন্তুষ্ট পুরনো নেতাদের সামলানোও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
খড়গপুর সদর কেন্দ্র বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে দিলীপ ঘোষের মত হেভিওয়েট প্রার্থীর উপস্থিতি এই কেন্দ্রের লড়াইকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। অন্যদিকে, তৃণমূলও এই আসন ধরে রাখতে মরিয়া।
৭৪ জন বিধায়কের টিকিট কাটা নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই ক্ষোভের সুর শোনা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় বিক্ষোভ, মিছিল এবং দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদের ঘটনাও সামনে এসেছে। যদিও দলীয় নেতৃত্বের তরফে বারবারই বলা হচ্ছে, এটি একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং এর ফলে দল আরও শক্তিশালী হবে।
দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট বিজেপি এবার প্রার্থী বাছাইয়ে অনেক বেশি সতর্ক হতে চাইছে। গত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা ‘দলবদলু’ নেতাদের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলার রাজনৈতিক লড়াই আরও জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ, অন্যদিকে বিজেপির কৌশল সব মিলিয়ে ভোটের আগে রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।




















