মুম্বই: মহারাষ্ট্রের বিড জেলায় অবস্থিত গুলজার-এ-রজা (Maharashtra ATS)ট্রাস্ট নামে একটি ধর্মীয় সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি সিল করে দেওয়া হয়েছে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস নিজে এই তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস) এই ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে। বিদেশ থেকে আসা ২৫ লক্ষ টাকারও বেশি অর্থের লেনদেন সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত হওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এটিএস-এর তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে ট্রাস্টের অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিকভাবে অর্থ প্রবেশ করছিল। বিশেষ করে বিদেশী উৎস থেকে আসা ফান্ডিং নিয়ে গুরুতর সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ফড়নবীস বলেছেন, “যখন তদন্তকারী সংস্থা মনে করছে যে এই অর্থ বিদেশী এবং সন্দেহজনক উৎস থেকে এসেছে, তখন এটিএস অ্যাকাউন্টগুলি সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” এই ট্রাস্টটি মূলত ধর্মীয় কাজের নামে তহবিল সংগ্রহ করত বলে জানা যায়, কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠেছে এই টাকা আসলে কোথায় যাচ্ছিল এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছিল।
আরও দেখুনঃ সিনেমা হিট হলে প্রেক্ষাগৃহের আয় কমে! হিসেব জানলে চমকে যাবেন
সূত্রের খবর, ট্রাস্টটি বিড জেলার পাতারুদ গ্রামে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে নিজেকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রচার করত। কিন্তু নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে যে, এটি সম্পূর্ণ ভুয়ো বা অবৈধভাবে চলছিল। পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের ট্রাস্ট ৪.৭৩ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বড় অংশই বিদেশী ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে এসেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এটিএস-এর অফিসাররা বলছেন, এই অর্থের লেনদেনে কোনো স্বচ্ছতা ছিল না এবং এতে সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবীস আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই ধরনের কার্যকলাপ রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নই, কিন্তু যারা ধর্মের নামে অবৈধ কাজ করে, বিদেশী টাকা নিয়ে সন্দেহজনক কার্যকলাপ চালায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই ঘটনায় এটিএস এখন সমস্ত লেনদেনের বিস্তারিত খতিয়ান তৈরি করছে। কোন কোন অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা এসেছে, কারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিল সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে ইমরান, কায়সার, মুজ্জামিল, তৌফিকের মতো নাম শোনা যাচ্ছে। এটিএস-এর তরফ থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে। এই ঘটনা মহারাষ্ট্রে ধর্মীয় ট্রাস্টগুলির ফান্ডিং নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। অনেকে মনে করছেন, এটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; রাজ্যজুড়ে এমন অনেক সংস্থা থাকতে পারে যারা বিদেশী অর্থের উপর নির্ভর করে চলছে এবং তাদের কার্যকলাপ সঠিকভাবে নজরদারি করা দরকার।




















