কলকাতা: সিনেমা মানেই শুধু বিনোদন নয়, এর পেছনে রয়েছে জটিল আর্থিক সমীকরণও (Cinema Business)। দর্শকরা যখন ২০০ বা ৩০০ টাকার টিকিট কাটেন, তখন অনেকেই ভাবেন- পুরো টাকাটাই বুঝি হল মালিকের পকেটে যায়। কিন্তু বাস্তবটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভারতের বৃহত্তম মাল্টিপ্লেক্স চেনগুলোর একটি PVR Cinemas–এর আয় মডেল দেখলেই বোঝা যায়, সিনেমা সুপারহিট হলে উল্টে প্রেক্ষাগৃহের অংশ কমে যায়!
একজন দর্শক ২০০ টাকা দিয়ে একটি সিনেমার টিকিট কিনলেন। সাধারণত এই টাকার প্রায় ৫০% যায় সিনেমা প্রযোজকের কাছে এবং বাকি ৫০% থাকে প্রেক্ষাগৃহের কাছে। অর্থাৎ প্রেক্ষাগৃহ পেল ১০০ টাকা। আর প্রযোজকেরর পকেটে গেল ১০০টাকা। এটাই মূল ভিত্তি। তবে এই হিসেব স্থির নয়, সিনেমার ব্যবসা অনুযায়ী তা বদলে যায়।
সিনেমা ফ্লপ হলে হলের লাভ বাড়ে। অদ্ভুত হলেও সত্য, যদি সিনেমা প্রত্যাশিত ব্যবসা করতে না পারে, তখন প্রেক্ষাগৃহ বাড়তি সুবিধা পায়। অনেক ক্ষেত্রে হল পায় অতিরিক্ত প্রায় ২.৫% বোনাস। তখন ভাগ দাঁড়ায় প্রেক্ষাগৃহ: ৫২.৫%। আর প্রযোজক: ৪৭.৫ শতাংশ। অর্থাৎ সিনেমা না চললে হলের ঝুঁকি কমাতে এই অতিরিক্ত অংশ দেওয়া হয়। সিনেমা হিট হলে প্রযোজকের আয় বাড়ে।
অন্যদিকে, সিনেমা যদি বক্স অফিসে দুর্দান্ত সাফল্য পায়, তখন পরিস্থিতি পুরো উল্টে যায়। দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে প্রযোজকের অংশ বাড়তে থাকে, আর হলের অংশ কমতে শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, দ্বিতীয় সপ্তাহে হল পায় প্রায় ৩৭.৫%। পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে তা নেমে আসে প্রায় ৩০% বা তার কাছাকাছি। অর্থাৎ সিনেমা যত বেশি দিন হাউসফুল চলে, প্রতি টিকিটে হলের আয় তত কমে যায়!
কেন এমন ব্যবস্থা? এই মডেলের মূল উদ্দেশ্য ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়া। সিনেমা তৈরি করতে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়। প্রথম সপ্তাহে হল বেশি অংশ পায়, যাতে তারা সিনেমা প্রদর্শনের ঝুঁকি নিতে রাজি হয়। কিন্তু সিনেমা হিট হলে প্রযোজক ও ডিস্ট্রিবিউটর বেশি লাভ পান, কারণ তাঁদের বিনিয়োগই সবচেয়ে বড়। তাহলে হলগুলো লাভ করে কীভাবে?
শুধু টিকিট নয়, মাল্টিপ্লেক্সগুলোর বড় আয়ের উৎস হলো। খাবার ও পানীয়, বিজ্ঞাপন। প্রিমিয়াম আসন ও অভিজ্ঞতা। অনেক ক্ষেত্রে খাবারের বিক্রি থেকেই হল বেশি লাভ করে থাকে। সব মিলিয়ে বলা যায়, সিনেমা ব্যবসা এক জটিল আর্থিক ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে। দর্শক যত বেশি হলে যান, সিনেমা যত বেশি সফল হয়, প্রযোজকের লাভ তত বাড়ে, কিন্তু প্রতি টিকিটে হলের অংশ কমে যায়। তাই “সিনেমা হিট মানেই হলের প্রচুর লাভ”, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়।
সিনেমা দেখতে গেলে এবার টিকিট হাতে নিয়ে একবার ভাবতেই পারেন, আপনার দেওয়া টাকার কতটা কার পকেটে যাচ্ছে!




















