কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে ক্রমশ। প্রার্থী তালিকায় রদবদল ঘটিয়ে চমক দিয়েছে তৃণমূল। (Manoranjan Byapari)তবে এবারে আর বলাগড়ে টিকিট পেলেন না তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। তার বদলে বলাগড়ে প্রার্থী হচ্ছেন রঞ্জন ধারা। বিধানসভার টিকিট কপালে না জুটিতেই সমাজমাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট করলেন মনোরঞ্জন। তিনি লিখলেন টিকিট যে তিনি পাবেন না তা আগে থেকেই তার মনে হয়েছিল।
তার কারণ সমাজের নিম্ন স্তর থেকে উঠে আসা মানুষের হয়ে তিনি বাংলায় ঘটতে থাকা বিভিন্ন ক্ষেত্রের দুর্নীতির প্রতিবাদ করেছিলেন। তার এই আবেগ ঘন পোস্টে বার বার ঘুরে ফিরে এসেছে তার জীবনের সংগ্রাম এবং সমাজের নিচু স্তর থেকে উঠে আসার লড়াইয়ের গল্প। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন সীমিত শক্তি নিয়েই চলতে থাকা বিভিন্ন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কিভাবে প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি ।
আরও দেখুনঃ শুক্র-শনিবার ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রাজ্যে, কোন কোন জেলায় সতর্কতা
রেশন থেকে গরু, বালি থেকে গাঁজা এমনকি গাছ নিয়ে মাফিয়া রাজের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বিধায়ক এমনটাই দাবি তার। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে মনোরঞ্জনের পোস্ট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ অতীতে রাজ্যে ঘটে যাওয়া একের পর এক মাফিয়া রাজে নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের হেভিয়েটদের। কয়লাকাণ্ডে অভিষেক, গরু পাচারে অনুব্রত, রেশন দুর্নীতিতে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নামও সামনে এসেছে।
তাই রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে নেটিজেন প্রত্যকেই মনোরঞ্জনের এই মন্তব্যকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেছেন এবং বলেছেন রাজ্যসরকারের এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলাই যেন কাল হল এই তৃণমূল বিধায়কের। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা মাফিয়ারাজের বিরুদ্ধে বেসুরো মনোরঞ্জন তাই এবারের নির্বাচনে ব্রাত্য। এছাড়াও অনেকেই মনে করেছেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী তৃণমূলের বিধায়ক হয়েও বার বার তার দলের বিরুদ্ধে গিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন।
মনোরঞ্জন ব্যাপারী রুনা খাতুন ও তাঁর স্বামীকে “দুর্নীতিগ্রস্ত” বলে আক্রমণ করেছিলেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতি ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে টিকিট বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি রুনা খাতুনকে ব্যঙ্গ করে “বলাগড়ের ফুলন দেবী” বলেও সম্বোধন করেছিলেন। ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতাদের একাংশ বিধায়ককে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
এমনকি দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় যেমন ডিসেম্বরের মাজদিয়া একতারপুরের সভায় তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, যা নিয়ে তিনি ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সুতরাং এই ধরণের ইতিহাস খতিয়ে দেখলেই বোঝা যায় মনোরঞ্জনের উপরে বহুদিন থেকেই শীর্ষ নেতৃত্ব চটে আছে এবং সেই কারণেই এবারের বিধানসভায় লড়াইয়ের অনুমতি না দিয়ে তাকে ব্রাত্যই রাখল শাসক দল।



















