সংবাদদাতা, কোচবিহার: বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election) দামামা বাজতে না বাজতেই রাজ্যের একাধিক জেলায় পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদল শুরু হয়েছে। রাজ্যের ১২ জেলার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কোচবিহারের নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইপিএস অফিসার যশপ্রীত সিং। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে এই নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়েছে।
বিদায়ী এসপি সন্দীপ কাররার স্থলাভিষিক্ত হলেন যশপ্রীত সিং। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যপূরণে ভোটের আগে এমন রদবদলকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের অনেকে।
নতুন এসপির সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ কী?
প্রশাসনিক মহলে যশপ্রীত সিংকে দক্ষ, কড়া মেজাজের এবং অভিজ্ঞ অফিসার হিসেবে চেনেন অনেকে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম কাজ হবে জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা এবং বিশেষ করে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা।
কোচবিহার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলা। তাই চোরাচালান, অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত সংক্রান্ত যেকোনো অপরাধ রুখতে নতুন এসপিকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি ভোটের সময় রাজনৈতিক সহিংসতা, বুথ দখল বা অশান্তি যাতে না ছড়ায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
কেন এই বদলি?
কোচবিহারের রাজনৈতিক পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরেই উত্তপ্ত। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন ঘটনায় প্রশাসনিক মূল্যায়ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সাধারণত ভোটের আগে এমন সংবেদনশীল পদে অফিসার বদল করে থাকে, যাতে কোনো পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ না ওঠে।
রাজ্যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন দু’দফায় (২৩ ও ২৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে এখন থেকেই প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। কোচবিহারের মতো সংবেদনশীল জেলায় নতুন এসপির নিয়োগ সেই প্রস্তুতিরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
জেলার সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক কর্মীরা নতুন এসপির দিকে তাকিয়ে আছেন। অনেকে আশা করছেন, যশপ্রীত সিং-এর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা আরও মজবুত হবে এবং ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।
কোচবিহারের মানুষের কাছে শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সবচেয়ে বড় চাওয়া। নতুন পুলিশ সুপার কতটা সফলভাবে সেই চাওয়া পূরণ করতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
(প্রতিবেদনটি উপলব্ধ তথ্য ও প্রশাসনিক সূত্রের ভিত্তিতে তৈরি।)




















