মহাকাশ অনুসন্ধানে আরেকটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে, নাসা তার উচ্চাভিলাষী ড্রাগনফ্লাই মিশনের (NASA Dragonfly Mission) কাজ শুরু করেছে, যা শনির বৃহত্তম উপগ্রহ টাইটানে একটি পারমাণবিক চালিত ড্রোন পাঠাবে। আটটি রোটর বিশিষ্ট এই গাড়ির আকারের ড্রোনটি টাইটানের পৃষ্ঠের উপর দিয়ে উড়বে এবং এর বায়ুমণ্ডল, পৃষ্ঠ এবং জৈব পদার্থ অধ্যয়ন করবে। এই মিশনটি ২০২৮ সালে উৎক্ষেপণ করার এবং প্রায় ছয় বছর যাত্রার পর ২০৩৪ সালে টাইটানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
আটটি রোটর বিশিষ্ট একটি বিশেষায়িত ড্রোন
ড্রাগনফ্লাই হল আটটি রোটর বিশিষ্ট একটি বিশেষায়িত অক্টোকপ্টার ড্রোন। এটি টাইটানের ঘন বায়ুমণ্ডল এবং কম মাধ্যাকর্ষণ সহ্য করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা মসৃণ উড়ান নিশ্চিত করে। এই ড্রোনটি পারমাণবিক শক্তি দ্বারা চালিত হবে, একটি মাল্টি-মিশন রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর দিয়ে সজ্জিত। এই সিস্টেমটি ড্রোনটিকে দীর্ঘমেয়াদী শক্তি সরবরাহ করবে। ইঞ্জিনিয়াররা বর্তমানে এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পাওয়ার ইউনিট তৈরি করছেন।
টাইটানের বায়ুমণ্ডলে কাজ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ
টাইটান হল শনির বৃহত্তম এবং আমাদের সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক উপগ্রহ, এমনকি বুধের চেয়েও বড়। টাইটানের বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানকার তাপমাত্রা অত্যন্ত কম, এবং পৃথিবীতে একটি সংকেত পৌঁছাতে প্রায় এক ঘন্টা সময় লাগতে পারে। এই কারণেই ড্রাগনফ্লাইকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিতভাবে ডিজাইন করা হচ্ছে, যা এটিকে উড়ান এবং গবেষণার বিষয়ে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেয়। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে টাইটানের ঘন বায়ুমণ্ডল এই ড্রোনটিকে আরও ভালোভাবে উত্তোলন করতে সাহায্য করবে, যার ফলে এটি দীর্ঘ দূরত্বে উড়তে পারবে।
টাইটানের পৃষ্ঠে জীবনের চিহ্ন অনুসন্ধান করা হবে
ড্রাগনফ্লাইকে ২০২৮ সালে ফ্যালকন হেভি রকেটে করে উৎক্ষেপণ করা হবে। প্রায় ছয় বছর যাত্রার পর, এটি টাইটানের সেল্ক ক্রেটার নামক একটি এলাকায় অবতরণ করবে। এই এলাকাটি বেছে নেওয়া হয়েছে কারণ এখানে জৈব পদার্থ থাকার সম্ভাবনা বেশি। ড্রোনের ক্যামেরা, স্পেকট্রোমিটার এবং অন্যান্য সেন্সর টাইটানের পৃষ্ঠ এবং সেখানে উপস্থিত জটিল রাসায়নিক পদার্থ অধ্যয়ন করবে। এই নমুনাগুলি ভবিষ্যতে জীবনের সম্ভাবনা বুঝতেও সাহায্য করতে পারে।



















