বাগদাদ: ইরাকের রাজধানী বাগদাদের গ্রিন জোনের (Iranian drone attack)কাছাকাছি মার্কিন দূতাবাস চত্বরে গত কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। প্রতিরাতেই আকাশে গর্জন করে উঠছে মার্কিন সিআরএএম (কাউন্টার রকেট, আর্টিলারি অ্যান্ড মর্টার) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই অত্যাধুনিক সিস্টেমটি ড্রোন, রকেট ও মর্টারের মতো ছোটখাটো হুমকি থেকে দূতাবাসকে রক্ষা করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি। গত কয়েকদিনে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো থেকে একের পর এক ড্রোন হামলা আসছিল।
প্রতিবারই সিআরএএম সিস্টেম সক্রিয় হয়ে উঠে আকাশে ট্রেসার গুলির ঝলকানি ছড়িয়ে দিয়ে বেশিরভাগ ড্রোন ধ্বংস করে দিয়েছে। বাগদাদের আকাশে রাতের অন্ধকারে এই দৃশ্য যেন যুদ্ধের এক নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে উঠেছিল।কিন্তু শনিবার ভোরের দিকে পরিস্থিতি বদলে গেল। ইরানি একটি ড্রোন সম্ভবত শাহেদ-ধরনের একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন সফলভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে দূতাবাস চত্বরের ছাদে অবস্থিত সিআরএএম-এর রাডোম (রাডার ডোম) অংশটিকে সরাসরি আঘাত করে।
আরও দেখুনঃ ব্রিগেডের আগে শহরে ‘গো ব্যাক মোদী’ হোর্ডিং-এর ঝড়
বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। ইরাকি নিরাপত্তা সূত্র ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, কীভাবে ড্রোনটি সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধ্বংস করে দিয়েছে। এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর এখনও পাওয়া যায়নি, তবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই ক্ষতি মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধাক্কা। আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের ওপর বোমা হামলা চলছে ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে।
তার জবাবে ইরান-সমর্থিত ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামে পরিচিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো ইরাকের মাটি থেকে মার্কিন স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে। বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক সাপোর্ট সেন্টার বারবার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে। কয়েকদিন আগেও ছয়টি ড্রোনের একটি সোয়ার্ম হামলা হয়েছিল, যার মধ্যে পাঁচটিকে সিআরএএম ধ্বংস করলেও একটি গার্ড টাওয়ারের কাছে আঘাত হেনেছিল।
সেই থেকে মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।ইরানি ড্রোনের এই সাফল্য অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত। কারণ সিআরএএম সিস্টেমটি অত্যন্ত কার্যকরী এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হুমকি শনাক্ত করে মিনিটের মধ্যে গুলি চালায়। কিন্তু এবার ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো সম্ভবত আরও উন্নত কৌশল ব্যবহার করেছে হয়তো ড্রোনটি নিম্ন উচ্চতায় উড়ে এসেছে অথবা ইলেকট্রনিক জ্যামিং-এর সাহায্য নিয়েছে।
কিছু বিশ্লেষক বলছেন, এটি শুধু রাডার অ্যান্টেনা বা সেন্সরের অংশ ধ্বংস করেছে, পুরো সিস্টেম নয়। তবু এই ক্ষতি দূতাবাসের নিরাপত্তাকে দুর্বল করে দিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও হামলার সম্ভাবনা বেড়ে গেছে।ইরাক সরকার এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে, তারা মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে না। কিন্তু বাস্তবে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকের রাজনীতি ও নিরাপত্তায় গভীর প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে। আমেরিকার পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবে অভ্যন্তরীণ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দূতাবাসের কর্মীরা ‘ডাক অ্যান্ড কভার’ অবস্থানে থাকার নির্দেশ পেয়েছেন।



















