তেহরান: ইরান আজ ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যৌথ মার্কিন-ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে (Iran Missile Attack)একটি সাহসী কিন্তু ব্যর্থ আক্রমণ চালিয়েছে। এই আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের চলতে থাকা সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনাকে চরমে তুলেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুসারে, তেহরান দুটি মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে এই কৌশলগত ঘাঁটির দিকে, কিন্তু কোনোটিই লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি।
এই ঘটনা ইরানের মিসাইল সক্ষমতার একটি নতুন দিক প্রকাশ করেছে, কারণ দিয়েগো গার্সিয়া ইরান থেকে প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এমন একটি দূরত্ব যা ইরানের সরকারি ঘোষণায় বলা ২,০০০ কিলোমিটারের সীমা ছাড়িয়ে যায়।দিয়েগো গার্সিয়া চাগোস দ্বীপপুঞ্জের একটি ছোট অ্যাটল, যা ভারত মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত। এটি আমেরিকা এবং ব্রিটেনের যৌথ নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি।
আরও দেখুনঃ ৪০০০ কিমি দূরে ভারত মহাসাগরে সেনাঘাঁটিতে ইরানের হামলার চেষ্টা
এখান থেকে মার্কিন বাহিনী এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘদিন ধরে এটি বোমারু বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং গুপ্তচরব্যবস্থার জন্য একটি নিরাপদ হাব হিসেবে কাজ করছে। সম্প্রতি ইউকে-র প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আমেরিকাকে এই ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছেন, যা ইরানের এই প্রতিক্রিয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।এই যুদ্ধের শুরু হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ, যখন আমেরিকা এবং ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে।
এরপর থেকে সংঘাত ক্রমাগত বেড়েছে ইরান হরমুজ প্রণালী আটকে দিয়ে বিশ্বের তেল সরবরাহ বিঘ্নিত করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দিয়েগো গার্সিয়ায় আক্রমণের চেষ্টা যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধিকে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে। এটি একটি সতর্কবার্তা ইরান দেখাতে চেয়েছে যে তারা দূরবর্তী মার্কিন সম্পদকেও লক্ষ্য করতে সক্ষম।
রিপোর্ট অনুসারে, দুটি মিসাইলের মধ্যে একটি মাঝ আকাশে ব্যর্থ হয়ে পড়ে, আর অন্যটির দিকে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ছোড়া হয়। ইন্টারসেপশন সফল হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, কারণ মিসাইলগুলো ঘাঁটিতে আঘাত করেনি। ইরান বা মার্কিন কর্তৃপক্ষ এই ঘটনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি, কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই তথ্য প্রকাশ করেছে।



















