লখনউ: সারা দেশে রান্নার গ্যাসের অকাল। হরমুজ থেকে পেট্রোলের জাহাজ এসে পৌঁছলেও গ্যাস (Abdul Rahman)সিলিন্ডার কবে থেকে আবার মানুষের ধরাছোঁয়ার মধ্যে আসবে তা এখনও অজানা। এই আবহেই যোগী রাজ্যে ধরা পড়ল এলপিজি সিলিন্ডারের কালোবাজারি। উত্তর প্রদেশের হাপুড় জেলায় রাতের অন্ধকারে পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে তৈরী হয়েছে চাঞ্চল্য। সমাজবাদী পার্টির স্থানীয় নেতা আব্দুল রহমানের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে ৫৫টি ভর্তি এলপিজি সিলিন্ডার এবং বেশ কয়েকটি খালি সিলিন্ডার।
হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে অশান্তির কারণে পেট্রোল-ডিজেলের দাম যেমন আকাশছোঁয়া হয়েছে, তেমনই এলপিজি সিলিন্ডারেরও জোগান কমে গিয়েছে। অনেক জায়গায় গ্রাহকরা দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়িয়েও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের মজুতদারি সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও দেখুনঃ উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ৪৪তম মিসাইল হানা, কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য
হাপুড় পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে রাতের দিকে অভিযান চালানো হয়। বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখা যায়, একাধিক ঘরে স্তূপ করে রাখা রয়েছে লাল রঙের সিলিন্ডারগুলো। ৫৫টি পুরোপুরি ভর্তি ছিল, আর খালি সিলিন্ডারও ছিল অনেকগুলো। পুলিশের দাবি, এগুলো সবই ঘরোয়া ব্যবহারের জন্য সাবসিডি-প্রাপ্ত এলপিজি সিলিন্ডার।
সাধারণত একজন গ্রাহকের কাছে এতগুলো সিলিন্ডার থাকার কোনও বৈধ কারণ নেই। তাই সন্দেহ হয়েছে যে এগুলো কালোবাজারে বিক্রির জন্য মজুত করা হয়েছিল। বাজারে যখন সিলিন্ডারের দাম বেড়ে গিয়েছে এবং সরবরাহ কম, তখন এমন মজুত করে অবৈধভাবে বেশি দামে বিক্রি করলে মোটা লাভ হয়। আব্দুল রহমান সমাজবাদী পার্টির একজন পরিচিত মুখ হাপুড় এলাকায়।
তিনি দলের স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচিত। পুলিশের অভিযানের সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে। কয়েকজন পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ সিলিন্ডারগুলো বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে গিয়েছে এবং এই ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসেনশিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্টের অধীনে মজুতদারি ও কালোবাজারির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়ে গিয়েছে। বিজেপি সমর্থক ও সরকারি মুখপাত্ররা বলছেন, এটা স্পষ্ট প্রমাণ যে বিরোধীরা সংকটের সুযোগ নিয়ে কালোবাজারি করছে। যোগী আদিত্যনাথের সরকার যখন কঠোরভাবে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে এবং জনসাধারণের সুবিধার জন্য কাজ করছে, তখন কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সংকট তৈরি করে সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে চাইছে।



















