কলকাতা: দীর্ঘদিনের জল্পনা এবং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে চলা অনিশ্চয়তার অবশেষে অবসান ঘটতে চলেছে। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণায় আর কার্যত কোনও বাধা নেই। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৬ মার্চই পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তবে এবারের সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে ভোটের দফায়। অতীতে ৮ দফায় ভোট হলেও, এবার রাজ্যে সম্ভবত মাত্র ২ দফাতেই সম্পন্ন হতে পারে ছাব্বিশের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন।
কবে বেজে উঠবে ভোটের দামামা?
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, এসআইআর প্রক্রিয়ার জট না কাটলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেও পরে ভোট ঘোষণা হতে পারে। তবে সেই জল্পনা উড়িয়ে কমিশন ভোটের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে।
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ু, কেরল, অসম এবং পুদুচেরিতেও একই সময়ে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ মার্চ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হলে, প্রথম দফার ভোটের আগে অন্তত ২৮ থেকে ৩০ দিন সময় দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি বা তৃতীয় সপ্তাহেই প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হতে পারে। এরপর খুব অল্প ব্যবধানেই দ্বিতীয় দফার ভোট ও ফল ঘোষণা হওয়ার কথা।
৮ দফার বদলে এবার মাত্র ২ দফায় ভোট? West Bengal election 2026 date
অতীতে রাজ্যে নির্বাচনী হিংসা রুখতে বহু দফায় ভোটগ্রহণের নজির রয়েছে। তবে এবার কমিশনের অন্দরে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, এত বেশি দফায় ভোটের আর কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। কমিশনের এক আধিকারিকের মতে, দুই বা কম দফায় ভোট হলে দুষ্কৃতীরা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় গিয়ে অশান্তি পাকানোর সুযোগ অনেকটাই কম পাবে।
সম্প্রতি কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া রাজ্যের প্রায় সব বিরোধী দলই এক বা দুই দফায় ভোটের পক্ষে সওয়াল করেছে। রাজ্য প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কর্তারাও একই পরামর্শ দিয়েছেন। দিল্লিতে আরও একদফা চূড়ান্ত বৈঠকের পরই বাংলার ২৯৪ আসনের জন্য ২ দফার সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়তে পারে।
জট কাটল এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার
প্রায় ৬০ লক্ষ এসআইআর আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়ায় ভোট পিছিয়ে যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তা কেটে গিয়েছে। গত ১০ মার্চ এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্বাচন ঘোষণায় কোনও বাধা নেই। আদালতে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। যার মধ্যে বাতিল হয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ ৪ হাজার আবেদন।
সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত ভোটার তালিকা কীভাবে প্রকাশ করা হবে, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ওপর ছেড়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এই বিষয়ে খুব শিগগিরই তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন নির্বাচন দপ্তরের আধিকারিকরা।
আদালতের নির্দেশ এবং নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করেই এখন বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের সম্পূর্ণ রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।




















