কলকাতা: কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ফের গতি বাড়াল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বুধবার সকালে রাজ্য পুলিশের আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুরের বাড়িতে আচমকা হানা দিল ইডি-র একটি দল। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে বাড়ি ঘিরে ফেলে শুরু হয় জোরদার তল্লাশি অভিযান।
গেটে সাঁটানো হল হাজিরার নোটিস
দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে অবস্থিত ওই পুলিশ আধিকারিকের বাড়িতে পৌঁছেই মেন গেটে একটি হাজিরার নোটিস টাঙিয়ে দেন তদন্তকারীরা। নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী ১৩ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ইডি দফতরে হাজিরা দিতে হবে মনোরঞ্জন মণ্ডলকে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি তাঁকে পাঠানো ইডি-র তৃতীয় সমন। এর আগের দু’টি সমন তিনি এড়িয়ে গিয়েছেন। বুধবার অভিযানের সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট না হলেও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে খবর মিলেছে।
কী অভিযোগ এই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে? ED Coal Smuggling Case
ইডি সূত্রে খবর, কয়লা পাচার মামলায় ‘প্রোটেকশন মানি’ বা সুরক্ষামূল্য আদায়ের যে বিপুল বেআইনি লেনদেন হয়েছিল, তার সঙ্গে মনোরঞ্জন মণ্ডলের সরাসরি যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। কয়লা পাচারের সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বিতর্কিত অতীত এবং মুখ্যমন্ত্রীর কড়া পদক্ষেপ
এই পুলিশ আধিকারিকের অতীত রেকর্ডও যথেষ্ট বিতর্কিত। কয়লা পাচার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া অবস্থান নেওয়ার পরই তৎকালীন বারাবনি থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছিল। নবান্নের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর একাংশ অর্থের বিনিময়ে এই পাচারে মদত দিচ্ছে, যা সরকার কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না।
গত ফেব্রুয়ারি মাসেও তাঁর বাড়িতে ইডি হানা দিয়েছিল। সেই সময় তিনি সদ্য বুদবুদ থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ নেওয়ার আগেই তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে স্পেশাল ব্রাঞ্চে বদলি করা হয়।
তদন্তকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃতীয় সমন পাওয়ার পরেও তিনি যদি ইডি দফতরে হাজিরা এড়িয়ে যান, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




















